জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন এক অভূতপূর্ব ঘটনার সাক্ষী হল, যা উপস্থিত সদস্যসহ দেশবাসীকে হতবাক করে দিয়েছে। একজন মন্ত্রী এবং স্পিকারের মধ্যেকার উত্তপ্ত বাদানুবাদের সূত্রপাত ঘটে। মন্ত্রী স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আগে জানতাম আপনি পাগল। কিন্তু ইদানীং মনে হচ্ছে শুধু পাগল নয়, শয়তানও; আপনার মধ্যে আজাজিলগোত্রীয় কোনো শয়তান ভর করেছে। তা না হলে এমন বেফাঁস কথা বলতে পারতেন না; অস্বীকার করতে পারতেন না, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে আহত-নিহত এবং অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতার অবদান।’
পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য সরকার এবং বিরোধীদলীয় হুইপ-চিপ হুইপ তৎপর হয়ে ওঠেন। তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি খানিকটা শান্ত হলে সদস্যরা স্পিকারের কাছে বিবৃতি প্রদানের জন্য দাবি জানান। স্পিকার তখন এক বিস্ময়কর ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, ‘দেখুন, আপনাদের কোথাও ভুল হচ্ছে। মন্ত্রি সাহেব অহেতুক আমাকে ভুল বুঝছেন। আমি তো তাকে কিছু বলিনি। যা বলার ওই মেয়েটিকে বলেছি।’
স্পিকারের এই বক্তব্যে সভাসদদের মধ্যে নতুন করে হাসির খোরাক জোগায়। প্রধানমন্ত্রী উৎসুক হয়ে জিজ্ঞেস করেন, ‘কোন মেয়ের কথা বলছেন আপনি!’ স্পিকার উত্তর দেন, ‘ওই যে ছোট্ট বাচ্চা একটি মেয়ে, যে মন্ত্রীর আসনে বসা ছিল।’ এই উত্তরে স্পষ্ট হয়ে যায় যে স্পিকারের মানসিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও মন্ত্রীর আসনে কোনো নারী সদস্য ছিলেন না, এমনকি অল্প বয়সি মেয়ের উপস্থিতিও ছিল না।
কিছু সদস্য মনে করেন, বয়সের ভারে অথবা দৃষ্টিশক্তির দুর্বলতার কারণে স্পিকার এমনটা দেখেছেন। একজন নারী সদস্যের প্রশ্নের উত্তরে স্পিকার মেয়েটির বয়স আনুমানিক সাত কি আট বছর বলে জানান। এরপর নিরাপত্তা বাহিনী সদস্যরা সংসদের ভেতরে তল্লাশি চালালেও তেমন কোনো মেয়ের সন্ধান পাওয়া যায়নি। অবশেষে সকলেই একমত হন যে স্পিকারের মানসিক সমস্যা রয়েছে। দেশের নামকরা ডাক্তারদের শরণাপন্ন হলেও কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েনি, এবং ডাক্তারি রিপোর্টে মন্ত্রীকে সুস্থ ঘোষণা করা হয়।
রিপোর্টারের নাম 




















