চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের নেতা হিসেবে পরিচিত এবং ‘বেকারি কামাল’ নামে পরিচিত মো. কামাল উদ্দিন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে আমন্ত্রিত হওয়ায় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর করমর্দনের ছবি প্রকাশ্যে আসার পর প্রশ্ন উঠেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দলের পরিচিত নেতা কীভাবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত অনুষ্ঠানে প্রবেশের সুযোগ পেলেন?
একাধিক নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে খোঁজখবর শুরু হয়েছে। কীভাবে তিনি আমন্ত্রিত হলেন, কার সুপারিশে প্রবেশাধিকার পেলেন এবং নিরাপত্তা যাচাইয়ের কোন ধাপে এই বিষয়টি নজরে আসেনি—এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে।
পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) একজন কর্মকর্তা পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে আমার দেশকে বলেন, কামাল উদ্দিনকে নিয়ে মাঠ পর্যায় থেকে একাধিকবার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রায় প্রতিবারই ‘উচ্চ পর্যায়’ থেকে ফোন আসত। তিনি বলেন, তাঁর বিষয়ে প্রতিবেদন পাঠানোর আগে বিভিন্ন উচ্চপর্যায় থেকে ফোন আসত এবং ইতিবাচক রিপোর্ট দিতে বলা হতো। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা যখন তাঁর বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতেন, তখন তিনি কখনো পুলিশ কমিশনার, কখনো অন্য কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে ফোন করিয়ে দিতেন, যা অনেক কর্মকর্তাকে বিব্রত করত।
চট্টগ্রামে তিনি কখনো পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), কখনো পুলিশ কমিশনার, কখনো ওসি, আবার কখনো বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করতেন। নিজের প্রভাব-প্রতিপত্তির গল্প শুনিয়ে প্রশাসনের অনেককেই প্রভাবিত করার চেষ্টা করতেন তিনি।
রিপোর্টারের নাম 






















