২০২৪ সালের জুলাই মাস বাংলাদেশের ইতিহাসে এক রক্তাক্ত অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। কোটা সংস্কারের মতো একটি সাধারণ ও যৌক্তিক দাবি নিয়ে রাজপথে নামা শিক্ষার্থীদের ওপর যেভাবে রাষ্ট্রীয় শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছিল, তা নজিরবিহীন। যখন মেধাবীরা বৈষম্যহীন সমাজ ও চাকরির সুষম সুযোগ দাবি করছিল, তখন তাদের ওপর লেলিয়ে দেওয়া হয়েছিল ঘাতক বুলেট। এর ফলে অসংখ্য মায়ের বুক খালি হয়েছে এবং রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে তরুণদের রক্তে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করা। কিন্তু এই ন্যায়সঙ্গত দাবির উত্তর দেওয়া হয়েছিল বিভাজনের রাজনীতি দিয়ে। শিক্ষার্থীদের গায়ে ‘রাজাকার’ তকমা লাগিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানোর উস্কানি দেওয়া হয়েছিল খোদ সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে। ১৬ জুলাই রংপুরের আবু সাঈদের বুক চিতিয়ে পুলিশের গুলির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দৃশ্যটি এই আন্দোলনের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করে।
এই লড়াই কেবল কোটা সংস্কারের ছিল না, এটি ছিল আত্মমর্যাদা এবং অধিকার আদায়ের লড়াই। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যখন নাগরিকদের ওপর আক্রমণ চালানো হয়, তখন সেই রাষ্ট্রের ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে পড়ে। জুলাইয়ের সেই উত্তাল দিনগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সত্য ও ন্যায়ের পথ কখনও বুলেট দিয়ে রুদ্ধ করা যায় না। ইতিহাসের এই শিক্ষা যারা উপেক্ষা করে, তাদের করুণ পরিণতি অনিবার্য।
রিপোর্টারের নাম 

























