ঢাকা ০৪:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচার ও ফ্যাসিবাদে জড়িতদের শাস্তির দাবি ১১ দলীয় ঐক্যের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৫১:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

জুলাই মাসে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং ফ্যাসিবাদে জড়িতদের দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখ নেই) বেলা ১১টায় এই কর্মসূচি শুরু হয়।

মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, তাদের পক্ষ থেকে দেওয়া স্মারকলিপি আমলে নিয়ে অবিলম্বে ‘ফ্যাসিবাদ’ এর মূল হোতা হিসেবে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে এবং আওয়ামী লীগকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। একইসঙ্গে ফ্যাসিবাদের সব দোসরকেও আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান তিনি। অন্যথায় বিক্ষুব্ধ জনতা রাজপথের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এর যথাযথ ব্যবস্থা নেবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

হামিদুর রহমান আযাদ দ্রুত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশে যদি আবার ফ্যাসিবাদ ফিরে আসে, তাহলে জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে শুধু ফ্যাসিবাদকে রুখবে না, ফ্যাসিবাদের মদতদাতা হিসেবে আপনাদের ক্ষমতায় থাকার ব্যাপারেও জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি আরও বলেন, গত ৫ আগস্ট বাংলাদেশ এক নতুন যাত্রা শুরু করেছে। জুলাইয়ের শহীদ ও যোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষা ছিল—নতুন বাংলাদেশে ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে এবং শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। সে সময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক দল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছিল—সংস্কার করা হবে, গণহত্যার বিচার হবে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। সে অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও একই দিনে গণভোটের মধ্য দিয়ে জনগণ ৪৮টি সাংবিধানিক বিষয়ে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে।

তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে, জাতিকে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বপ্ন দেখানো হলেও তা পূরণ না করে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ এর মাধ্যমে বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে। ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই বিচারের কাজ ধীরগতিতে করা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত প্রসিকিউটররা যে সাহসিকতার সঙ্গে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন, তাতে একটি অগ্রগতি হলেও বর্তমান সরকার সেটিকে থামিয়ে দিয়েছে। এর মাধ্যমে বিচারহীনতার সংস্কৃতির দিকে আবার যাত্রা শুরু হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী ওয়াশরুমে ভিডিও ধারণের অভিযোগ: উত্তাল ক্যাম্পাস, প্রশাসনিক ভবনে তালা

জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচার ও ফ্যাসিবাদে জড়িতদের শাস্তির দাবি ১১ দলীয় ঐক্যের

আপডেট সময় : ০২:৫১:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

জুলাই মাসে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং ফ্যাসিবাদে জড়িতদের দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখ নেই) বেলা ১১টায় এই কর্মসূচি শুরু হয়।

মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, তাদের পক্ষ থেকে দেওয়া স্মারকলিপি আমলে নিয়ে অবিলম্বে ‘ফ্যাসিবাদ’ এর মূল হোতা হিসেবে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে এবং আওয়ামী লীগকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। একইসঙ্গে ফ্যাসিবাদের সব দোসরকেও আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান তিনি। অন্যথায় বিক্ষুব্ধ জনতা রাজপথের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এর যথাযথ ব্যবস্থা নেবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

হামিদুর রহমান আযাদ দ্রুত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশে যদি আবার ফ্যাসিবাদ ফিরে আসে, তাহলে জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে শুধু ফ্যাসিবাদকে রুখবে না, ফ্যাসিবাদের মদতদাতা হিসেবে আপনাদের ক্ষমতায় থাকার ব্যাপারেও জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি আরও বলেন, গত ৫ আগস্ট বাংলাদেশ এক নতুন যাত্রা শুরু করেছে। জুলাইয়ের শহীদ ও যোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষা ছিল—নতুন বাংলাদেশে ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে এবং শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। সে সময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক দল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছিল—সংস্কার করা হবে, গণহত্যার বিচার হবে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। সে অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও একই দিনে গণভোটের মধ্য দিয়ে জনগণ ৪৮টি সাংবিধানিক বিষয়ে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে।

তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে, জাতিকে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বপ্ন দেখানো হলেও তা পূরণ না করে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ এর মাধ্যমে বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে। ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই বিচারের কাজ ধীরগতিতে করা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত প্রসিকিউটররা যে সাহসিকতার সঙ্গে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন, তাতে একটি অগ্রগতি হলেও বর্তমান সরকার সেটিকে থামিয়ে দিয়েছে। এর মাধ্যমে বিচারহীনতার সংস্কৃতির দিকে আবার যাত্রা শুরু হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।