ঢাকা ০১:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

দোহাজারী-কক্সবাজার রেল প্রকল্প: ব্যর্থ পরামর্শক স্মেকের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের পথে রেলওয়ে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৪:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

দোহাজারী-কক্সবাজার-ঘুমধুম রেলপথ প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষের দিকে হলেও, তদারকি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান স্মেক বাংলাদেশ এখনো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এই ব্যর্থতার জেরে প্রতিষ্ঠানটিকে চূড়ান্ত নোটিস পাঠিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। নোটিসে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন না হলে অর্থ প্রদান স্থগিত এবং চুক্তি বাতিলের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ চলতি বছরের ১৩ মে প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয় থেকে এই নোটিসটি পাঠায়। যদিও এটি গোপন রাখা হয়েছিল, তবে নির্ভরযোগ্য সূত্রে চিঠিটির বিষয়বস্তু জানা গেছে। কক্সবাজার রেল প্রকল্পের পরিচালক মো. আসাদুল হকও চিঠি জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জারি করা নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, এর আগেও গত ২৩ ফেব্রুয়ারি একই বিষয়ে স্মেককে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু বারবার তাগাদা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি পারফরম্যান্স সার্টিফিকেট, চূড়ান্ত বিল, প্রকল্প ও চুক্তি সমাপনী প্রতিবেদন, রেললাইনের প্রকৃত অবস্থান দেখানো ‘অ্যাজ-বিল্ট’ নকশা এবং হস্তান্তর-সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দেয়নি।

নোটিস অনুযায়ী, ঠিকাদারের রেললাইনের চূড়ান্ত অবস্থান যাচাই ও হস্তান্তর নিশ্চিত করা, প্রকল্প সমাপনী প্রতিবেদন তৈরি, কাজের পরিমাণ যাচাই এবং অন্তর্বর্তীকালীন বিল মূল্যায়নের মতো দায়িত্বগুলো তদারকি পরামর্শক হিসেবে স্মেকেরই ছিল। এসব কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না হওয়ায় প্রকল্প বন্ধের প্রক্রিয়া, নিরীক্ষা, চূড়ান্ত অর্থছাড় এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম—সবকিছুই আটকে আছে বলে চিঠিতে জানানো হয়েছে।

রেল কর্তৃপক্ষ এটিকে চুক্তিগত দায়বদ্ধতা পালনে ব্যর্থতার ‘চূড়ান্ত নোটিস’ আখ্যা দিয়েছে এবং স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, সময়মতো নথি জমা না পড়লে চুক্তির প্রচলিত শর্ত অনুযায়ী বিল স্থগিতসহ অন্যান্য ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনে চুক্তি বাতিলের পথেও হাঁটতে পারে।

রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, স্মেক যেসব প্রকল্পে তদারকি পরামর্শক হিসেবে যুক্ত ছিল, তার প্রায় প্রতিটিতেই কাজের পরিধি বাড়ানোর অজুহাত দেখিয়ে (ভেরিয়েশন) খরচ বহুবার বেড়েছে। দোহাজারী-কক্সবাজার ছাড়াও আখাউড়া-লাকসাম এবং যমুনা রেল সেতু প্রকল্পেও একই ধরনের ব্যয় বৃদ্ধির চিত্র দেখা গেছে। পরামর্শকের ভূমিকা ঘিরে বিতর্ক নতুন নয় এবং এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এলো যখন স্মেকের কাজের ধরন নিয়ে রেলের ভেতরেই দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ বিদ্যমান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ এশিয়ার খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক চ্যালেঞ্জ

দোহাজারী-কক্সবাজার রেল প্রকল্প: ব্যর্থ পরামর্শক স্মেকের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের পথে রেলওয়ে

আপডেট সময় : ১১:২৪:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

দোহাজারী-কক্সবাজার-ঘুমধুম রেলপথ প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষের দিকে হলেও, তদারকি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান স্মেক বাংলাদেশ এখনো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এই ব্যর্থতার জেরে প্রতিষ্ঠানটিকে চূড়ান্ত নোটিস পাঠিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। নোটিসে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন না হলে অর্থ প্রদান স্থগিত এবং চুক্তি বাতিলের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ চলতি বছরের ১৩ মে প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয় থেকে এই নোটিসটি পাঠায়। যদিও এটি গোপন রাখা হয়েছিল, তবে নির্ভরযোগ্য সূত্রে চিঠিটির বিষয়বস্তু জানা গেছে। কক্সবাজার রেল প্রকল্পের পরিচালক মো. আসাদুল হকও চিঠি জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জারি করা নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, এর আগেও গত ২৩ ফেব্রুয়ারি একই বিষয়ে স্মেককে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু বারবার তাগাদা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি পারফরম্যান্স সার্টিফিকেট, চূড়ান্ত বিল, প্রকল্প ও চুক্তি সমাপনী প্রতিবেদন, রেললাইনের প্রকৃত অবস্থান দেখানো ‘অ্যাজ-বিল্ট’ নকশা এবং হস্তান্তর-সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দেয়নি।

নোটিস অনুযায়ী, ঠিকাদারের রেললাইনের চূড়ান্ত অবস্থান যাচাই ও হস্তান্তর নিশ্চিত করা, প্রকল্প সমাপনী প্রতিবেদন তৈরি, কাজের পরিমাণ যাচাই এবং অন্তর্বর্তীকালীন বিল মূল্যায়নের মতো দায়িত্বগুলো তদারকি পরামর্শক হিসেবে স্মেকেরই ছিল। এসব কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না হওয়ায় প্রকল্প বন্ধের প্রক্রিয়া, নিরীক্ষা, চূড়ান্ত অর্থছাড় এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম—সবকিছুই আটকে আছে বলে চিঠিতে জানানো হয়েছে।

রেল কর্তৃপক্ষ এটিকে চুক্তিগত দায়বদ্ধতা পালনে ব্যর্থতার ‘চূড়ান্ত নোটিস’ আখ্যা দিয়েছে এবং স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, সময়মতো নথি জমা না পড়লে চুক্তির প্রচলিত শর্ত অনুযায়ী বিল স্থগিতসহ অন্যান্য ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনে চুক্তি বাতিলের পথেও হাঁটতে পারে।

রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, স্মেক যেসব প্রকল্পে তদারকি পরামর্শক হিসেবে যুক্ত ছিল, তার প্রায় প্রতিটিতেই কাজের পরিধি বাড়ানোর অজুহাত দেখিয়ে (ভেরিয়েশন) খরচ বহুবার বেড়েছে। দোহাজারী-কক্সবাজার ছাড়াও আখাউড়া-লাকসাম এবং যমুনা রেল সেতু প্রকল্পেও একই ধরনের ব্যয় বৃদ্ধির চিত্র দেখা গেছে। পরামর্শকের ভূমিকা ঘিরে বিতর্ক নতুন নয় এবং এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এলো যখন স্মেকের কাজের ধরন নিয়ে রেলের ভেতরেই দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ বিদ্যমান।