ঢাকা ০১:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

তিস্তা মহাপরিকল্পনা অধরা: বর্ষায় বন্যা, শুষ্ক মৌসুমে হাহাকার, জনজীবনে চরম দুর্ভোগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২২:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

উত্তরাঞ্চলের প্রায় দুই কোটি মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা তিস্তা নদী এখন দুর্ভোগের প্রতিচ্ছবি। লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারী জেলার কৃষক, জেলে এবং নদীতীরবর্তী মানুষের প্রধান ভরসা এই নদী। তবে দীর্ঘদিনেও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত না হওয়ায় বর্ষায় ভয়াবহ বন্যা ও নদীভাঙন, আর শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে চরম সংকট পোহাতে হচ্ছে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের।

তিস্তা তীরবর্তী গ্রামের বাসিন্দা মকবুল হোসেন হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, তিস্তা শুধু একটি নদী নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের জীবনরেখা। বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও মহাপরিকল্পনা আলোর মুখ দেখছে না, যার ফলে আমরা তিস্তাপাড়ের মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছি। শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে মাঠ ফেটে চৌচির হয়, আর বর্ষায় নদীভাঙনে মানুষ ঘরবাড়ি হারায়। এই সংকটের স্থায়ী সমাধান তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া সম্ভব নয়।

কৃষক সফিয়ার রহমান ও শহিদুল ইসলামসহ একাধিক কৃষক জানান, শুষ্ক মৌসুমে সেচের জন্য পানির হাহাকার শুরু হয়। আবার বর্ষায় তিস্তার ভয়াবহ ভাঙনের আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়। কখন বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়, সেই শঙ্কায় দিন কাটে তাদের। বন্যা ও নদীভাঙনের পাশাপাশি কৃষিতেও ব্যাপক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন তিস্তাপাড়ের মানুষ। আকস্মিক বন্যার পানিতে ডুবে যায় ধান, গম, ভুট্টা, বাদাম, পাট, পেঁয়াজ, মরিচ ও রসুনসহ বিভিন্ন ফসল।

গবাদিপশু নিয়েও চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় তাদের। পানি বাড়লে প্রাকৃতিক খাদ্যের উৎস বন্ধ হয়ে যায়। বাড়িঘরে পানি উঠলে গবাদিপশু নিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে হয়। অনেক সময় বসতঘর পানিতে ডুবে গেলে রান্না করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

আদিতমারী এলাকার ষাটোর্ধ্ব মফিদার রহমান বলেন, আট থেকে দশবার তার বাড়িভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে। প্রতিবছর নিজেকে স্বাবলম্বী করার চেষ্টা করেন, কিন্তু বর্ষা এলেই সবকিছু আবার ভেসে যায়। বর্ষা এলেই আতঙ্ক তৈরি হয়। কখন পানি এসে সবকিছু ডুবিয়ে নিঃস্ব করে দেবে, তা বলা মুশকিল। বছরের পর বছর তিস্তা মহাপরিকল্পনার কথা শুনলেও এখন আর আশা জাগে না। কারণ, বর্ষা তাদের সবকিছু কেড়ে নেয়।

একই এলাকার তুহিন মিয়া বলেন, প্রতি বর্ষায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত ও ভাঙনের শিকার হয়ে মানুষের সর্বস্ব কেড়ে নেয়। শুকনো মৌসুমে কিছুটা চাষাবাদ করে ঘুরে দাঁড়ালেও নতুন বর্ষায় আবার নিঃস্ব হতে হয়। এভাবেই চলছে নদীপাড়ের মানুষের জীবনচক্র। এমনকি ২০২২ সালে আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা এলাকায় ৪৯ কোটি টাকার একটি বাঁধ নির্মাণ করা হলেও এর সুফল মিলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ এশিয়ার খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক চ্যালেঞ্জ

তিস্তা মহাপরিকল্পনা অধরা: বর্ষায় বন্যা, শুষ্ক মৌসুমে হাহাকার, জনজীবনে চরম দুর্ভোগ

আপডেট সময় : ১১:২২:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

উত্তরাঞ্চলের প্রায় দুই কোটি মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা তিস্তা নদী এখন দুর্ভোগের প্রতিচ্ছবি। লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারী জেলার কৃষক, জেলে এবং নদীতীরবর্তী মানুষের প্রধান ভরসা এই নদী। তবে দীর্ঘদিনেও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত না হওয়ায় বর্ষায় ভয়াবহ বন্যা ও নদীভাঙন, আর শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে চরম সংকট পোহাতে হচ্ছে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের।

তিস্তা তীরবর্তী গ্রামের বাসিন্দা মকবুল হোসেন হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, তিস্তা শুধু একটি নদী নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের জীবনরেখা। বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও মহাপরিকল্পনা আলোর মুখ দেখছে না, যার ফলে আমরা তিস্তাপাড়ের মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছি। শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে মাঠ ফেটে চৌচির হয়, আর বর্ষায় নদীভাঙনে মানুষ ঘরবাড়ি হারায়। এই সংকটের স্থায়ী সমাধান তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া সম্ভব নয়।

কৃষক সফিয়ার রহমান ও শহিদুল ইসলামসহ একাধিক কৃষক জানান, শুষ্ক মৌসুমে সেচের জন্য পানির হাহাকার শুরু হয়। আবার বর্ষায় তিস্তার ভয়াবহ ভাঙনের আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়। কখন বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়, সেই শঙ্কায় দিন কাটে তাদের। বন্যা ও নদীভাঙনের পাশাপাশি কৃষিতেও ব্যাপক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন তিস্তাপাড়ের মানুষ। আকস্মিক বন্যার পানিতে ডুবে যায় ধান, গম, ভুট্টা, বাদাম, পাট, পেঁয়াজ, মরিচ ও রসুনসহ বিভিন্ন ফসল।

গবাদিপশু নিয়েও চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় তাদের। পানি বাড়লে প্রাকৃতিক খাদ্যের উৎস বন্ধ হয়ে যায়। বাড়িঘরে পানি উঠলে গবাদিপশু নিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে হয়। অনেক সময় বসতঘর পানিতে ডুবে গেলে রান্না করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

আদিতমারী এলাকার ষাটোর্ধ্ব মফিদার রহমান বলেন, আট থেকে দশবার তার বাড়িভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে। প্রতিবছর নিজেকে স্বাবলম্বী করার চেষ্টা করেন, কিন্তু বর্ষা এলেই সবকিছু আবার ভেসে যায়। বর্ষা এলেই আতঙ্ক তৈরি হয়। কখন পানি এসে সবকিছু ডুবিয়ে নিঃস্ব করে দেবে, তা বলা মুশকিল। বছরের পর বছর তিস্তা মহাপরিকল্পনার কথা শুনলেও এখন আর আশা জাগে না। কারণ, বর্ষা তাদের সবকিছু কেড়ে নেয়।

একই এলাকার তুহিন মিয়া বলেন, প্রতি বর্ষায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত ও ভাঙনের শিকার হয়ে মানুষের সর্বস্ব কেড়ে নেয়। শুকনো মৌসুমে কিছুটা চাষাবাদ করে ঘুরে দাঁড়ালেও নতুন বর্ষায় আবার নিঃস্ব হতে হয়। এভাবেই চলছে নদীপাড়ের মানুষের জীবনচক্র। এমনকি ২০২২ সালে আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা এলাকায় ৪৯ কোটি টাকার একটি বাঁধ নির্মাণ করা হলেও এর সুফল মিলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।