ঢাকা ০৪:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

অশুভ অতীতকে পেছনে ফেলে হিটলারের জন্মভিটা এখন পুলিশ স্টেশন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৮:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

অ্যাডলফ হিটলারের জন্মস্থান, অস্ট্রিয়ার ব্রাউনাউ আম ইন শহরের একটি বাড়িকে অবশেষে পুলিশ স্টেশন হিসেবে ব্যবহার শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। অনাকাঙ্ক্ষিত নাৎসি বন্দনা এবং নব্য নাৎসি পর্যটকদের আনাগোনা বন্ধ করে বাড়িটিকে ঘিরে তৈরি হওয়া কুখ্যাত অতীত ও বিষাক্ত ঐতিহ্যকে ‘প্রশমিত’ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বছরজুড়ে চলা নানা বিতর্কের পর এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হলো।

১৮৮৯ সালের ২০ এপ্রিল ব্রাউনাউ আম ইন শহরের কেন্দ্রস্থলের একটি ভাড়া বাড়িতে হিটলার জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং জীবনের শুরুর কয়েক সপ্তাহ সেখানেই কাটিয়েছিলেন। সম্প্রতি বাড়িটিতে পুলিশের একটি বিশেষ মাদকবিরোধী ইউনিটের কার্যালয় চালু করা হয়েছে। দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, জার্মানি সীমান্তের কাছে হওয়ায় এই এলাকাটি মাদকের অন্যতম প্রধান রুট। এখন থেকে এখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সার্বক্ষণিক উপস্থিতি অবৈধ নাৎসি প্রদর্শন বন্ধে সহায়ক হবে।

প্রায় ২ কোটি ইউরো ব্যয়ে বাড়িটি সংস্কার করা হয়েছে। সংস্কারের পর ভবনের ইট-পাথরের ধ্বংসাবশেষও একটি গোপন স্থানে সতর্কতার সঙ্গে ফেলা হয়েছে, যাতে হিটলার অনুসারীরা সেগুলো সংগ্রহ করে কোনো স্মৃতিচিহ্ন বানাতে না পারে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অস্ট্রিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গেরহার্ড কার্নার এটিকে একটি ‘নতুন অধ্যায়’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘এই ভবন এখন থেকে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও নিরাপত্তার প্রতীকে পরিণত হলো। তবে অতীত বা ইতিহাস হারিয়ে যাবে না।’

অতীতের নানা বিতর্কিত ঘটনার কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়িটিকে ‘অশুভ গৃহ’ বলে ডাকতেন। চরমপন্থিরা প্রায়ই হিটলারের জন্মদিনে ভবনের সামনে ফুল দিয়ে সেলফি তুলত এবং হাত উঁচিয়ে নাৎসি কায়দায় অভিবাদন জানাত। বিশেষজ্ঞ কমিটি ভবনটি ভেঙে ফেলার বিপক্ষে মতামত দিয়েছিল, কারণ এটি ভেঙে ফেললে অস্ট্রিয়ার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় মুছে যাবে। অন্যদিকে, এটিকে জাদুঘর বানালে নাৎসি অনুসারীদের জন্য এটি আরো বড় তীর্থস্থানে পরিণত হতে পারত। তাই প্রশাসনিক বা সামাজিক উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়। জনমত জরিপেও অস্ট্রিয়ার অধিকাংশ মানুষ এটিকে রাজনৈতিক শিক্ষাকেন্দ্র বা প্রশাসনিক কাজের জন্য ব্যবহারের পক্ষে মত দিয়েছিলেন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও রাজনীতির সমীকরণ বিবেচনায়, সতেরো শতকে নির্মিত এই ভবনে আগে একটি ইন ও বিয়ার তৈরির কারখানা ছিল। হিটলারের পরিবার ভবনের উপরের তলার একটি কক্ষে অল্প সময়ের জন্য ভাড়া থাকত। ২০১১ সাল পর্যন্ত ভবনটি একটি প্রতিবন্ধী যত্ন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী ওয়াশরুমে ভিডিও ধারণের অভিযোগ: উত্তাল ক্যাম্পাস, প্রশাসনিক ভবনে তালা

অশুভ অতীতকে পেছনে ফেলে হিটলারের জন্মভিটা এখন পুলিশ স্টেশন

আপডেট সময় : ০২:৪৮:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

অ্যাডলফ হিটলারের জন্মস্থান, অস্ট্রিয়ার ব্রাউনাউ আম ইন শহরের একটি বাড়িকে অবশেষে পুলিশ স্টেশন হিসেবে ব্যবহার শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। অনাকাঙ্ক্ষিত নাৎসি বন্দনা এবং নব্য নাৎসি পর্যটকদের আনাগোনা বন্ধ করে বাড়িটিকে ঘিরে তৈরি হওয়া কুখ্যাত অতীত ও বিষাক্ত ঐতিহ্যকে ‘প্রশমিত’ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বছরজুড়ে চলা নানা বিতর্কের পর এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হলো।

১৮৮৯ সালের ২০ এপ্রিল ব্রাউনাউ আম ইন শহরের কেন্দ্রস্থলের একটি ভাড়া বাড়িতে হিটলার জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং জীবনের শুরুর কয়েক সপ্তাহ সেখানেই কাটিয়েছিলেন। সম্প্রতি বাড়িটিতে পুলিশের একটি বিশেষ মাদকবিরোধী ইউনিটের কার্যালয় চালু করা হয়েছে। দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, জার্মানি সীমান্তের কাছে হওয়ায় এই এলাকাটি মাদকের অন্যতম প্রধান রুট। এখন থেকে এখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সার্বক্ষণিক উপস্থিতি অবৈধ নাৎসি প্রদর্শন বন্ধে সহায়ক হবে।

প্রায় ২ কোটি ইউরো ব্যয়ে বাড়িটি সংস্কার করা হয়েছে। সংস্কারের পর ভবনের ইট-পাথরের ধ্বংসাবশেষও একটি গোপন স্থানে সতর্কতার সঙ্গে ফেলা হয়েছে, যাতে হিটলার অনুসারীরা সেগুলো সংগ্রহ করে কোনো স্মৃতিচিহ্ন বানাতে না পারে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অস্ট্রিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গেরহার্ড কার্নার এটিকে একটি ‘নতুন অধ্যায়’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘এই ভবন এখন থেকে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও নিরাপত্তার প্রতীকে পরিণত হলো। তবে অতীত বা ইতিহাস হারিয়ে যাবে না।’

অতীতের নানা বিতর্কিত ঘটনার কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়িটিকে ‘অশুভ গৃহ’ বলে ডাকতেন। চরমপন্থিরা প্রায়ই হিটলারের জন্মদিনে ভবনের সামনে ফুল দিয়ে সেলফি তুলত এবং হাত উঁচিয়ে নাৎসি কায়দায় অভিবাদন জানাত। বিশেষজ্ঞ কমিটি ভবনটি ভেঙে ফেলার বিপক্ষে মতামত দিয়েছিল, কারণ এটি ভেঙে ফেললে অস্ট্রিয়ার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় মুছে যাবে। অন্যদিকে, এটিকে জাদুঘর বানালে নাৎসি অনুসারীদের জন্য এটি আরো বড় তীর্থস্থানে পরিণত হতে পারত। তাই প্রশাসনিক বা সামাজিক উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়। জনমত জরিপেও অস্ট্রিয়ার অধিকাংশ মানুষ এটিকে রাজনৈতিক শিক্ষাকেন্দ্র বা প্রশাসনিক কাজের জন্য ব্যবহারের পক্ষে মত দিয়েছিলেন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও রাজনীতির সমীকরণ বিবেচনায়, সতেরো শতকে নির্মিত এই ভবনে আগে একটি ইন ও বিয়ার তৈরির কারখানা ছিল। হিটলারের পরিবার ভবনের উপরের তলার একটি কক্ষে অল্প সময়ের জন্য ভাড়া থাকত। ২০১১ সাল পর্যন্ত ভবনটি একটি প্রতিবন্ধী যত্ন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো।