ঢাকা ০৪:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

গণঅভ্যুত্থানে নারী শহীদের আত্মত্যাগ: দুই বীরাঙ্গনার উপাখ্যান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৮:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়, যেখানে স্বৈরশাসক হাসিনার পতনের দাবিতে দেশের সর্বস্তরের মানুষ এক কাতারে শামিল হয়েছিল। এই গণবিপ্লবে নারীদের অকুতোভয় অংশগ্রহণ ছিল অনস্বীকার্য, যা আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। স্বৈরাচারী সরকারের ‘দেখামাত্র গুলি’ নীতিতে কেবল রাজপথের লড়াকু তরুণীরাই নয়, ঘরের নিরাপদ বারান্দা বা ছাদ থেকে প্রতিবাদী নারীরাও প্রাণ হারিয়েছেন। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই গণঅভ্যুত্থানে ১০ জন নারী শহীদ হয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন মায়া ইসলাম (৬০), শাহিনুর বেগম (৫৫), নাছিমা আক্তার (২৪), মেহেরুন নেছা (২২), লিজা আক্তার (২১), সুমাইয়া আক্তার (২০), নাঈমা সুলতানা (১৯), নাফিসা হোসেন মারওয়া (১৭), রিতা আক্তার (১৭) ও রিয়া গোপ (৬)। এই প্রতিবেদনে আমরা দুজন নারী শহীদের বীরত্বগাথা তুলে ধরছি।

জুলাই মাসের প্রথম নারী শহীদ ছিলেন ১৬ বছর বয়সি নাঈমা সুলতানা, মাইলস্টোন স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরে তার পরিবার ভাড়া বাসায় থাকত। তার বাবা একজন পল্লী চিকিৎসক ছিলেন এবং নাঈমার পড়াশোনার জন্য মা সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় থাকতেন। নাঈমা অবসর সময় কাটাতো ছবি এঁকে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরুতে সে খাতায় প্রতিবাদী ছবি এঁকে সময় দিত। ১৮ জুলাই ২০২৪ তারিখে উত্তরায় পুলিশের গুলিতে প্রায় ৩০ জন ছাত্র-জনতা নিহত হওয়ার আগের রাতে নাঈমা আন্দোলনের পোস্টার আঁকছিল এবং মাকে বলছিল, ‘আম্মু, ধরো আমি যদি আন্দোলনে গিয়ে মারা যাই, তুমি মানুষকে কী বলবা?’ মাকে জবাব দেওয়ার সুযোগ না দিয়েই সে আবার বলে উঠল, ‘বলবা যে শহীদ হয়েছে। আমার মেয়ে শহীদ…’

এই গণঅভ্যুত্থানে নারীদের বলিষ্ঠ অংশগ্রহণ কেবল মিছিল-মিটিংয়েই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তারা আন্দোলনকে বেগবান করতে নানাভাবে সহযোদ্ধাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তাদের আত্মত্যাগ ও সাহস বাঙালি জাতির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী ওয়াশরুমে ভিডিও ধারণের অভিযোগ: উত্তাল ক্যাম্পাস, প্রশাসনিক ভবনে তালা

গণঅভ্যুত্থানে নারী শহীদের আত্মত্যাগ: দুই বীরাঙ্গনার উপাখ্যান

আপডেট সময় : ০২:৪৮:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়, যেখানে স্বৈরশাসক হাসিনার পতনের দাবিতে দেশের সর্বস্তরের মানুষ এক কাতারে শামিল হয়েছিল। এই গণবিপ্লবে নারীদের অকুতোভয় অংশগ্রহণ ছিল অনস্বীকার্য, যা আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। স্বৈরাচারী সরকারের ‘দেখামাত্র গুলি’ নীতিতে কেবল রাজপথের লড়াকু তরুণীরাই নয়, ঘরের নিরাপদ বারান্দা বা ছাদ থেকে প্রতিবাদী নারীরাও প্রাণ হারিয়েছেন। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই গণঅভ্যুত্থানে ১০ জন নারী শহীদ হয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন মায়া ইসলাম (৬০), শাহিনুর বেগম (৫৫), নাছিমা আক্তার (২৪), মেহেরুন নেছা (২২), লিজা আক্তার (২১), সুমাইয়া আক্তার (২০), নাঈমা সুলতানা (১৯), নাফিসা হোসেন মারওয়া (১৭), রিতা আক্তার (১৭) ও রিয়া গোপ (৬)। এই প্রতিবেদনে আমরা দুজন নারী শহীদের বীরত্বগাথা তুলে ধরছি।

জুলাই মাসের প্রথম নারী শহীদ ছিলেন ১৬ বছর বয়সি নাঈমা সুলতানা, মাইলস্টোন স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরে তার পরিবার ভাড়া বাসায় থাকত। তার বাবা একজন পল্লী চিকিৎসক ছিলেন এবং নাঈমার পড়াশোনার জন্য মা সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় থাকতেন। নাঈমা অবসর সময় কাটাতো ছবি এঁকে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরুতে সে খাতায় প্রতিবাদী ছবি এঁকে সময় দিত। ১৮ জুলাই ২০২৪ তারিখে উত্তরায় পুলিশের গুলিতে প্রায় ৩০ জন ছাত্র-জনতা নিহত হওয়ার আগের রাতে নাঈমা আন্দোলনের পোস্টার আঁকছিল এবং মাকে বলছিল, ‘আম্মু, ধরো আমি যদি আন্দোলনে গিয়ে মারা যাই, তুমি মানুষকে কী বলবা?’ মাকে জবাব দেওয়ার সুযোগ না দিয়েই সে আবার বলে উঠল, ‘বলবা যে শহীদ হয়েছে। আমার মেয়ে শহীদ…’

এই গণঅভ্যুত্থানে নারীদের বলিষ্ঠ অংশগ্রহণ কেবল মিছিল-মিটিংয়েই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তারা আন্দোলনকে বেগবান করতে নানাভাবে সহযোদ্ধাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তাদের আত্মত্যাগ ও সাহস বাঙালি জাতির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।