২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় তা’মীরুল মিল্লাত কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (টাকসু) ভিপি হিসেবে ছাত্রদের নিরাপত্তা, কৌশল নির্ধারণ এবং সরাসরি ময়দানে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা স্মরণ করেছেন সংগঠনের একজন সাবেক নেতা। সে সময় ক্যাম্পাসে যৌথ বাহিনীর সতর্ক অবস্থান এবং আন্দোলনকে বিতর্কিত এড়াতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তিনি তুলে ধরেন।
তিনি জানান, মাদ্রাসার একটি গেট প্রশাসন বন্ধ করে দেওয়ায় আন্দোলনকারীরা উত্তরা আজমপুর বিএনএস সেন্টারের সামনে অবস্থান নিতেন। আন্দোলন যাতে জামায়াত-শিবিরের আন্দোলন হিসেবে পরিচিতি না পায়, সেজন্য শিক্ষার্থীদের পাঞ্জাবি-টুপি পরিহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। জুলাই বিপ্লবে তা’মীরুল মিল্লাত মাদ্রাসা থেকে মোট পাঁচজন শহীদ হন: শহীদ হাফেজ নাসির, শহীদ ওসমান পাটোয়ারী, শহীদ শাকিল পারভেজ, শহীদ মো. আদিল এবং শহীদ মুনতাসির রহমান আলিফ। এছাড়াও তিন শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছিলেন।
বিজয় অর্জনের পরেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বর্বরতার শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে সময়কার ট্রমা থেকে বের হতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। ঘুমের মধ্যে গোলাগুলির শব্দ শোনা এবং হালকা শব্দে আঁতকে ওঠার মতো অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়েছিল।
উত্তরা বিএনএস সেন্টারকে দেশের সবচেয়ে বেশি ম্যাসাকারের স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন। এমনও দেখেছেন যে, একজন আহত ভাইকে রিকশায় তুলে দেওয়ার পরও সেই ভাইয়ের রক্তের প্রতিশোধ নিতে অনেকে আবারও সামনের সারিতে এসে দাঁড়িয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েও অনেকে আল্লাহর কাছে শহীদ হিসেবে কবুল হওয়ার দোয়া করেছেন। আন্দোলনের এক পর্যায়ে রাবার বুলেটের আঘাতে ডান চোখে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন এবং মেডিকেলের অবর্ণনীয় অভিজ্ঞতার কথা বলেন, যেখানে প্রতি মুহূর্তে রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত দেহ নিয়ে আসা হচ্ছিল।
রিপোর্টারের নাম 


















