ঢাকা ০৩:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

ডেঙ্গু মোকাবিলায় ভিটামিন ডি-এর ভূমিকা: নতুন আশার আলো

দেশে ডেঙ্গুর একাধিক সেরোটাইপ একসঙ্গে সক্রিয় থাকায় রোগের প্রকৃতিতে পরিবর্তন এসেছে। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে ডেঙ্গু এখন মৃদু জ্বর, অল্প সময়ের জ্বর বা কেবল জ্বর-জ্বর ভাব নিয়ে উপস্থিত হচ্ছে। ডেঙ্গু জ্বরে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলো ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার ও ডেঙ্গু শক সিনড্রোম, যেখানে রক্তনালি থেকে প্লাজমা বেরিয়ে গিয়ে শরীরে তরল পদার্থের পরিমাণ কমে যায় এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বিকল হয়ে রোগীর মৃত্যু ঘটে। মারাত্মক ডেঙ্গু জ্বরে অতিরিক্ত ভাইরাস লোডের কারণে বিভিন্ন কোষ থেকে অতিমাত্রায় সাইটোকাইন নিঃসৃত হয়, যা ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার ও শক সিনড্রোম হওয়ার জন্য বিশেষভাবে দায়ী।

তবে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে ভিটামিন ডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এটি বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে এবং দ্রুত রোগমুক্তিতে সহায়ক। ডেঙ্গু জ্বরের জটিলতা সৃষ্টির বিভিন্ন পর্যায়ে ভিটামিন ডি এর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন ডি মানবদেহে ডেঙ্গু সংক্রমিত কোষের পরিমাণ কমায় এবং প্রো-ইনফ্লেমেটরি সাইটোকাইনসের নিঃসরণ হ্রাস করে। এর ফলে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা কমে আসে, শরীরে ভাইরাসের দ্রুত বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয় এবং সামগ্রিকভাবে ডেঙ্গুর তীব্রতা হ্রাস পায়।

দেশের প্রায় ৭৫-৯০ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে ভিটামিন ডি-এর স্বল্পতায় ভুগছেন। ডেঙ্গু সংক্রমিত রোগীদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের শরীরে এক ডোজ দুই লাখ ইউনিট ভিটামিন ডি দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে মারাত্মক ডেঙ্গু হওয়ার আশঙ্কা অন্যদের তুলনায় কমেছে। তাই ডেঙ্গু সংক্রমিত সবার শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি-এর জোগান নিশ্চিত করা জরুরি।

শরীরের চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ ভিটামিন ডি আমরা সূর্যের আলো থেকে পাই, বাকি ২০ শতাংশ আসে খাদ্য উপাদান থেকে, যেমন – পোনা, মাগুর, স্যালমন মাছ, দুধ ও ডিম। ভিটামিন ডি তৈরির জন্য প্রতিদিন ২০-৩০ মিনিট সরাসরি ত্বকে সূর্যের আলো লাগানো প্রয়োজন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যেকার রোদ ভিটামিন ডি-এর একটি উৎকৃষ্ট উৎস। তবে, পোশাক বা সানস্ক্রিন সরাসরি ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরিতে বাধা দিতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সিট বেল্ট ছাড়া ড্রাইভিং ও ফোনে কথায় হবে এআই মামলা

ডেঙ্গু মোকাবিলায় ভিটামিন ডি-এর ভূমিকা: নতুন আশার আলো

আপডেট সময় : ০২:৪১:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

দেশে ডেঙ্গুর একাধিক সেরোটাইপ একসঙ্গে সক্রিয় থাকায় রোগের প্রকৃতিতে পরিবর্তন এসেছে। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে ডেঙ্গু এখন মৃদু জ্বর, অল্প সময়ের জ্বর বা কেবল জ্বর-জ্বর ভাব নিয়ে উপস্থিত হচ্ছে। ডেঙ্গু জ্বরে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলো ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার ও ডেঙ্গু শক সিনড্রোম, যেখানে রক্তনালি থেকে প্লাজমা বেরিয়ে গিয়ে শরীরে তরল পদার্থের পরিমাণ কমে যায় এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বিকল হয়ে রোগীর মৃত্যু ঘটে। মারাত্মক ডেঙ্গু জ্বরে অতিরিক্ত ভাইরাস লোডের কারণে বিভিন্ন কোষ থেকে অতিমাত্রায় সাইটোকাইন নিঃসৃত হয়, যা ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার ও শক সিনড্রোম হওয়ার জন্য বিশেষভাবে দায়ী।

তবে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে ভিটামিন ডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এটি বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে এবং দ্রুত রোগমুক্তিতে সহায়ক। ডেঙ্গু জ্বরের জটিলতা সৃষ্টির বিভিন্ন পর্যায়ে ভিটামিন ডি এর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন ডি মানবদেহে ডেঙ্গু সংক্রমিত কোষের পরিমাণ কমায় এবং প্রো-ইনফ্লেমেটরি সাইটোকাইনসের নিঃসরণ হ্রাস করে। এর ফলে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা কমে আসে, শরীরে ভাইরাসের দ্রুত বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয় এবং সামগ্রিকভাবে ডেঙ্গুর তীব্রতা হ্রাস পায়।

দেশের প্রায় ৭৫-৯০ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে ভিটামিন ডি-এর স্বল্পতায় ভুগছেন। ডেঙ্গু সংক্রমিত রোগীদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের শরীরে এক ডোজ দুই লাখ ইউনিট ভিটামিন ডি দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে মারাত্মক ডেঙ্গু হওয়ার আশঙ্কা অন্যদের তুলনায় কমেছে। তাই ডেঙ্গু সংক্রমিত সবার শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি-এর জোগান নিশ্চিত করা জরুরি।

শরীরের চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ ভিটামিন ডি আমরা সূর্যের আলো থেকে পাই, বাকি ২০ শতাংশ আসে খাদ্য উপাদান থেকে, যেমন – পোনা, মাগুর, স্যালমন মাছ, দুধ ও ডিম। ভিটামিন ডি তৈরির জন্য প্রতিদিন ২০-৩০ মিনিট সরাসরি ত্বকে সূর্যের আলো লাগানো প্রয়োজন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যেকার রোদ ভিটামিন ডি-এর একটি উৎকৃষ্ট উৎস। তবে, পোশাক বা সানস্ক্রিন সরাসরি ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরিতে বাধা দিতে পারে।