ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র আন্দোলন ও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) তাদের আন্দোলন আরো জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে। মঙ্গলবার দিল্লির যন্তর মন্তরে এক সমাবেশে সিজেপির নেতা অভিজিৎ দীপক এই ঘোষণা দেন।
অভিজিৎ দীপক জানান, পুলিশের বাধা সত্ত্বেও যন্তর মন্তরে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তারা। তবে আপাতত সংসদ ভবন অভিমুখে নতুন কোনো কর্মসূচি দেওয়া হবে না। এই খবর আলজাজিরা ও এনডিটিভির সূত্রে জানা গেছে।
সোমবার ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যন্তর মন্তরে স্থাপিত আন্দোলনের মঞ্চ ভেঙে দেয় দিল্লি পুলিশ। একই দিনে সংসদ অভিমুখে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সংঘর্ষে বহু আন্দোলনকারী ও পুলিশ সদস্য আহত হন। আহতদের মধ্যে এক তরুণীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া (আরএমএল) হাসপাতালে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়েছে। ওই সংঘর্ষে ১০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এই চলমান আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস। দলটির নেতারা প্রথমে সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনের সামনে জড়ো হন। এরপর রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় দিল্লি পুলিশ কংগ্রেসের কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে আটক করে। সংঘর্ষের মধ্যে রাহুল গান্ধীর নাক দিয়ে রক্ত ঝরতে দেখা যায়।
কর্মসূচির আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো সহিংসতার জবাব চাইতেই তারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। একই দিনে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী হাসপাতালে গিয়ে আহত আন্দোলনকারীদের খোঁজখবর নেন। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডাও আরএমএল ও লেডি হার্ডিঞ্জ হাসপাতালে গিয়ে আহতদের চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি।
রিপোর্টারের নাম 




















