ঢাকা ১২:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

ইতিহাসের ভুল পথে চালিত কারা? কোটা সংস্কার আন্দোলন ও তার প্রেক্ষাপট

জুলাই ২০২৪-এর উত্তাল সময়ে যখন নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছিল ঘাতকের বুলেট, তখন দেশের পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে দুই প্রতিবাদী ছাত্রীকে লাঠি দিয়ে আক্রমণ এবং পরবর্তীতে অসংখ্য শিক্ষার্থীর রক্তাক্ত হওয়ার ঘটনা প্রতিবাদের জন্ম দেয়। দেশজুড়ে এই প্রতিবাদের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে, কিন্তু মিছিলের আওয়াজ স্তব্ধ করতে সহিংসতা ও বলপ্রয়োগ করা হয়, যা অনেক মায়ের বুক খালি করে দেয়।

আন্দোলনকারী ছাত্রদের দাবি ছিল অত্যন্ত সাধারণ: মেধার ভিত্তিতে সরকারি চাকরির জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ, কোনো গোষ্ঠী বা বিশেষ সুবিধা নয়। এই কোটা সংস্কারের দাবিটি জাতীয় আন্দোলনে রূপ নেয় এবং এটি ছিল ছাত্রদের অধিকার আদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। এই প্রজন্মের জন্য কোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা একটি মৌলিক অধিকার।

কিন্তু একটি যৌক্তিক দাবির বিপরীতে উত্তর আসে বিভাজনের মাধ্যমে—তা হলো ‘রাজাকার না মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ এই বয়ানের ভিত্তিতে। সংক্ষুব্ধ ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের রাজাকার বলে স্লোগান দিলেও তাদের একই ট্যাগ দেওয়া হয়, যদিও তাদের কারো কারো বাবা-মায়ের জন্মও তখন হয়নি। এর মাধ্যমে দেশবাসীকে বোঝানো হয় যে, এই মিছিলের তরুণদের আক্রমণকারীরাই মুক্তিযুদ্ধের আসল উত্তরাধিকারী। তারা এমন এক আরোপিত পুরোনো বয়ানের রক্ষক, যা রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বাগাড়ম্বরে, ভিন্নমত দমনে, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার হরণে ব্যবহৃত হয়।

শাসক দল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বলেন যে ‘রাজাকারদের’ জবাব দিতে তাদের ছাত্রলীগই যথেষ্ট। এর ফলস্বরূপ, নিরপরাধ কিন্তু প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রীদের রক্তে ভেজা ১৬ জুলাই, ২০২৪-এর বাংলাদেশ। রংপুরের রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে শহীদ হওয়ার পর তার মায়ের প্রশ্ন ছিল, ‘তুই মোর ছাওয়াক চাকরি না দিবু না দে, কিন্তু মারলু ক্যানে?’ এই প্রশ্ন জাতির বর্তমান দশা তুলে ধরে। তাহলে কি কেউ কেউ প্রমাণসহ বলতে চাইছেন যে এই রাষ্ট্র আবু সাঈদদের নয়? তাদের বেকারত্ব, যৌবনে অনিশ্চয়তা ও স্বপ্নভঙ্গ, রাষ্ট্রীয় পক্ষপাতিত্ব, দুর্নীতি এবং…

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মেটা এআই চ্যাটে আত্মহত্যার ইঙ্গিত পেলে অভিভাবক ও জরুরি সেবার কাছে বার্তা যাবে

ইতিহাসের ভুল পথে চালিত কারা? কোটা সংস্কার আন্দোলন ও তার প্রেক্ষাপট

আপডেট সময় : ১১:১৫:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

জুলাই ২০২৪-এর উত্তাল সময়ে যখন নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছিল ঘাতকের বুলেট, তখন দেশের পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে দুই প্রতিবাদী ছাত্রীকে লাঠি দিয়ে আক্রমণ এবং পরবর্তীতে অসংখ্য শিক্ষার্থীর রক্তাক্ত হওয়ার ঘটনা প্রতিবাদের জন্ম দেয়। দেশজুড়ে এই প্রতিবাদের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে, কিন্তু মিছিলের আওয়াজ স্তব্ধ করতে সহিংসতা ও বলপ্রয়োগ করা হয়, যা অনেক মায়ের বুক খালি করে দেয়।

আন্দোলনকারী ছাত্রদের দাবি ছিল অত্যন্ত সাধারণ: মেধার ভিত্তিতে সরকারি চাকরির জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ, কোনো গোষ্ঠী বা বিশেষ সুবিধা নয়। এই কোটা সংস্কারের দাবিটি জাতীয় আন্দোলনে রূপ নেয় এবং এটি ছিল ছাত্রদের অধিকার আদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। এই প্রজন্মের জন্য কোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা একটি মৌলিক অধিকার।

কিন্তু একটি যৌক্তিক দাবির বিপরীতে উত্তর আসে বিভাজনের মাধ্যমে—তা হলো ‘রাজাকার না মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ এই বয়ানের ভিত্তিতে। সংক্ষুব্ধ ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের রাজাকার বলে স্লোগান দিলেও তাদের একই ট্যাগ দেওয়া হয়, যদিও তাদের কারো কারো বাবা-মায়ের জন্মও তখন হয়নি। এর মাধ্যমে দেশবাসীকে বোঝানো হয় যে, এই মিছিলের তরুণদের আক্রমণকারীরাই মুক্তিযুদ্ধের আসল উত্তরাধিকারী। তারা এমন এক আরোপিত পুরোনো বয়ানের রক্ষক, যা রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বাগাড়ম্বরে, ভিন্নমত দমনে, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার হরণে ব্যবহৃত হয়।

শাসক দল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বলেন যে ‘রাজাকারদের’ জবাব দিতে তাদের ছাত্রলীগই যথেষ্ট। এর ফলস্বরূপ, নিরপরাধ কিন্তু প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রীদের রক্তে ভেজা ১৬ জুলাই, ২০২৪-এর বাংলাদেশ। রংপুরের রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে শহীদ হওয়ার পর তার মায়ের প্রশ্ন ছিল, ‘তুই মোর ছাওয়াক চাকরি না দিবু না দে, কিন্তু মারলু ক্যানে?’ এই প্রশ্ন জাতির বর্তমান দশা তুলে ধরে। তাহলে কি কেউ কেউ প্রমাণসহ বলতে চাইছেন যে এই রাষ্ট্র আবু সাঈদদের নয়? তাদের বেকারত্ব, যৌবনে অনিশ্চয়তা ও স্বপ্নভঙ্গ, রাষ্ট্রীয় পক্ষপাতিত্ব, দুর্নীতি এবং…