ঢাকা ০৩:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

পুলিশি বাধার অভিযোগ: অ্যাম্বুলেন্স আটকালে প্রাণ বাঁচত ছেলের, আক্ষেপ শহীদ পরিবারের

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কনিষ্ঠ শহীদদের একজন, হাফেজ মোনায়েল আহমেদ ইমরান, যার ১৬ বছর বয়সে জীবন গিয়েছিল, তার দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী মঙ্গলবার (তারিখ উল্লেখ নেই) তার নিজ বাড়িতে গভীর শোক ও শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ন্যায়বিচার, দায়ীদের জবাবদিহি এবং শহীদ পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় ইমরানের স্বজনেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তারা অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।

২০২৪ সালের ২১ জুলাই রাজধানীর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকার গ্র্যান্ড চাঁদনী রেস্তোরাঁ-সংলগ্ন এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হন মাদরাসাছাত্র হাফেজ মোনায়েল আহমেদ ইমরান। পরিবার ও সহযোদ্ধাদের অভিযোগ, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও পথে পুলিশের বাধার কারণে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ইমরান হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার কৃষক ছোয়াব মিয়ার ছেলে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, আন্দোলনে যোগদানের আশঙ্কায় সেদিন সকালে তাকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু দুপুরে চিপস কেনার কথা বলে কৌশলে ঘর থেকে বের হয়ে আন্দোলনে যোগ দেয় সে। বেলা প্রায় পৌনে ৩টার দিকে হেলমেট পরিহিত এক পুলিশ সদস্যের ছোড়া রাইফেলের গুলি তার পিঠ ভেদ করে বুক দিয়ে বেরিয়ে যায়। সহপাঠী ও আন্দোলনকারীরা তাকে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

কিন্তু পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, রায়েরবাগ এলাকায় পুলিশ প্রায় আধা ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখে। এ সময় সঙ্গে থাকা কয়েকজন আন্দোলনকারীকে মারধর করা হয় এবং তাদের মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়। পরিবার মনে করে, এই বিলম্বই ইমরানের মৃত্যুর অন্যতম কারণ। শহীদ ইমরানের মা ইয়াসমিন আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘পুলিশ যদি সেদিন অ্যাম্বুলেন্সটা আটকে না রাখত, হয়তো আমার ছোট ছেলেটা আজ বেঁচে থাকত। দেশের জন্য আমার ছেলে জীবন দিয়েছে, কিন্তু আজও আমরা তার মৃত্যুর বিচার পাইনি।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক নেতা বা কর্মী তাদের পরিবারের খোঁজ নিতে আসেননি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সিট বেল্ট ছাড়া ড্রাইভিং ও ফোনে কথায় হবে এআই মামলা

পুলিশি বাধার অভিযোগ: অ্যাম্বুলেন্স আটকালে প্রাণ বাঁচত ছেলের, আক্ষেপ শহীদ পরিবারের

আপডেট সময় : ০২:৪১:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কনিষ্ঠ শহীদদের একজন, হাফেজ মোনায়েল আহমেদ ইমরান, যার ১৬ বছর বয়সে জীবন গিয়েছিল, তার দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী মঙ্গলবার (তারিখ উল্লেখ নেই) তার নিজ বাড়িতে গভীর শোক ও শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ন্যায়বিচার, দায়ীদের জবাবদিহি এবং শহীদ পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় ইমরানের স্বজনেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তারা অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।

২০২৪ সালের ২১ জুলাই রাজধানীর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকার গ্র্যান্ড চাঁদনী রেস্তোরাঁ-সংলগ্ন এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হন মাদরাসাছাত্র হাফেজ মোনায়েল আহমেদ ইমরান। পরিবার ও সহযোদ্ধাদের অভিযোগ, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও পথে পুলিশের বাধার কারণে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ইমরান হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার কৃষক ছোয়াব মিয়ার ছেলে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, আন্দোলনে যোগদানের আশঙ্কায় সেদিন সকালে তাকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু দুপুরে চিপস কেনার কথা বলে কৌশলে ঘর থেকে বের হয়ে আন্দোলনে যোগ দেয় সে। বেলা প্রায় পৌনে ৩টার দিকে হেলমেট পরিহিত এক পুলিশ সদস্যের ছোড়া রাইফেলের গুলি তার পিঠ ভেদ করে বুক দিয়ে বেরিয়ে যায়। সহপাঠী ও আন্দোলনকারীরা তাকে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

কিন্তু পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, রায়েরবাগ এলাকায় পুলিশ প্রায় আধা ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখে। এ সময় সঙ্গে থাকা কয়েকজন আন্দোলনকারীকে মারধর করা হয় এবং তাদের মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়। পরিবার মনে করে, এই বিলম্বই ইমরানের মৃত্যুর অন্যতম কারণ। শহীদ ইমরানের মা ইয়াসমিন আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘পুলিশ যদি সেদিন অ্যাম্বুলেন্সটা আটকে না রাখত, হয়তো আমার ছোট ছেলেটা আজ বেঁচে থাকত। দেশের জন্য আমার ছেলে জীবন দিয়েছে, কিন্তু আজও আমরা তার মৃত্যুর বিচার পাইনি।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক নেতা বা কর্মী তাদের পরিবারের খোঁজ নিতে আসেননি।