ঢাকা ১২:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

পুলিশের গুলিতে নিহত রাব্বির লাশ তিনদিন পর উদ্ধার, জানাজায়ও বাধা

রাজধানীর ক্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আকরাম খান রাব্বি (২৮) গত ১৯ জুলাই পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। মিরপুর-১০ এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয় দলের ক্রিকেটার এনামুল হক বিজয়ের একটি শোরুমে চাকরি করতেন রাব্বি এবং সেই অর্থ দিয়ে তিনি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের খাবার কিনে দিতেন।

রাব্বির বাবা ফারুক খান জানান, তার ছেলে নিয়মিত আন্দোলনে যেত এবং অফিস শেষে মিছিলে যোগ দিত। তিনি বলেন, ‘নিজের টাকায় আন্দোলনে থাকা ছেলেমেয়েদের খাবার কিনে দিত। ওর ভেতর যে দেশপ্রেম ছিল, এ দেশ যদি তা বুঝত, তাহলে হয়তো গুলি ছোড়ার আগে একবার ভাবত। কিন্তু তারা ভাবেনি।’

১৯ জুলাই শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাব্বি বাসা থেকে বেরিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে মিরপুর-১০ এলাকার দিকে যান। তার মা বিউটি আক্তার জানান, সেদিন ছেলের আচরণ ছিল অন্যরকম এবং বের হওয়ার সময় সে বারবার বলছিল, ‘আম্মু, দরজাটা লাগিয়ে দাও।’

বন্ধুদের সঙ্গে মিরপুর-১০ এলাকায় পৌঁছে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার পর রাব্বি গুলিবিদ্ধ হন। শেখ হাসিনা ও জুনায়েদ আহমেদ পলকের নির্দেশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং পুলিশ, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের হামলায় আন্দোলনরত শতাধিক ছাত্র-জনতা গুলিবিদ্ধ হন। বিকাল ৪টা ১৭ মিনিটের দিকে শহীদ আবু তালেব স্কুলের সামনে রাব্বির বুক ও পেটে গুলি লাগে। এরপর তার এক বন্ধু ফারুক খানকে ফোন করে জানান যে রাব্বি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং তাকে মিরপুর-১১-এর ইসলামিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে পরে জানা যায়, ওই হাসপাতালে চিকিৎসা না দেওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মেটা এআই চ্যাটে আত্মহত্যার ইঙ্গিত পেলে অভিভাবক ও জরুরি সেবার কাছে বার্তা যাবে

পুলিশের গুলিতে নিহত রাব্বির লাশ তিনদিন পর উদ্ধার, জানাজায়ও বাধা

আপডেট সময় : ১১:১৫:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর ক্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আকরাম খান রাব্বি (২৮) গত ১৯ জুলাই পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। মিরপুর-১০ এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয় দলের ক্রিকেটার এনামুল হক বিজয়ের একটি শোরুমে চাকরি করতেন রাব্বি এবং সেই অর্থ দিয়ে তিনি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের খাবার কিনে দিতেন।

রাব্বির বাবা ফারুক খান জানান, তার ছেলে নিয়মিত আন্দোলনে যেত এবং অফিস শেষে মিছিলে যোগ দিত। তিনি বলেন, ‘নিজের টাকায় আন্দোলনে থাকা ছেলেমেয়েদের খাবার কিনে দিত। ওর ভেতর যে দেশপ্রেম ছিল, এ দেশ যদি তা বুঝত, তাহলে হয়তো গুলি ছোড়ার আগে একবার ভাবত। কিন্তু তারা ভাবেনি।’

১৯ জুলাই শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাব্বি বাসা থেকে বেরিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে মিরপুর-১০ এলাকার দিকে যান। তার মা বিউটি আক্তার জানান, সেদিন ছেলের আচরণ ছিল অন্যরকম এবং বের হওয়ার সময় সে বারবার বলছিল, ‘আম্মু, দরজাটা লাগিয়ে দাও।’

বন্ধুদের সঙ্গে মিরপুর-১০ এলাকায় পৌঁছে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার পর রাব্বি গুলিবিদ্ধ হন। শেখ হাসিনা ও জুনায়েদ আহমেদ পলকের নির্দেশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং পুলিশ, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের হামলায় আন্দোলনরত শতাধিক ছাত্র-জনতা গুলিবিদ্ধ হন। বিকাল ৪টা ১৭ মিনিটের দিকে শহীদ আবু তালেব স্কুলের সামনে রাব্বির বুক ও পেটে গুলি লাগে। এরপর তার এক বন্ধু ফারুক খানকে ফোন করে জানান যে রাব্বি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং তাকে মিরপুর-১১-এর ইসলামিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে পরে জানা যায়, ওই হাসপাতালে চিকিৎসা না দেওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।