ঢাকা ০৫:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

সিট বেল্ট ছাড়া ড্রাইভিং ও ফোনে কথায় হবে এআই মামলা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরা ব্যবহারে ইতিবাচক ফল পাওয়ার দাবি করে রাজধানীতে এ ধরনের নজরদারি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ট্রাফিক আইন ভঙ্গের চারটি ক্ষেত্রে সাফল্যের কথা জানিয়ে, শিগগিরই আরও দুটি অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, এআই ক্যামেরার মাধ্যমে মামলা দেওয়ার পর রাজধানীর সড়কে উল্টো পথে গাড়ি চালানো, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা, জেব্রা ক্রসিংয়ের নিয়ম না মানা এবং যেখানে-সেখানে গাড়ি পার্কিংয়ের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

এ সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আগামী দিনে সিট বেল্ট না বাঁধা এবং গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহারকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশের। বর্তমানে রাজধানীর ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৩৭টি এআই ক্যামেরা চালু রয়েছে। ডিএমপির দাবি, এসব ক্যামেরা চালুর পর উল্টো পথে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়েছে। তবে পথচারীদের অনিয়ন্ত্রিতভাবে সড়ক পারাপার এবং যাত্রী ওঠানামার জন্য বাসের সড়ক দখল করে দাঁড়িয়ে থাকার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে এখনও চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

এই পরিস্থিতিতে পুরো রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় আনতে দেড় হাজারের বেশি এআই ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে ডিএমপি। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিসুর রহমান বলেন, “উল্টো পথে গাড়ি চালানোকে আমরা সবচেয়ে গুরুতর ট্রাফিক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করি। পর্যায়ক্রমে আরও কিছু বিষয় যুক্ত করা হবে। সিট বেল্ট না বাঁধা এবং গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহারও নজরদারির আওতায় আসবে।”

পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে পুলিশ জানায়, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং ভারী বৃষ্টির সময় এআই ক্যামেরা পরিচালনায় সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে জলাবদ্ধতার কারণে যানবাহনের গতি কমে গেলে প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বিঘ্ন ঘটে। এ বিষয়ে আনিসুর রহমান বলেন, “মাঝেমধ্যে বিদ্যুৎ চলে যায়, আবার বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এসব পরিস্থিতিতে ট্রাফিক সিস্টেম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। তবে এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে আমরা কাজ করছি।”

এদিকে রাজধানীর প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে ডিএমপি। এ ধরনের যানবাহন বন্ধে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে মহানগর পুলিশ।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

সিট বেল্ট ছাড়া ড্রাইভিং ও ফোনে কথায় হবে এআই মামলা

সিট বেল্ট ছাড়া ড্রাইভিং ও ফোনে কথায় হবে এআই মামলা

আপডেট সময় : ০৩:৪৯:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরা ব্যবহারে ইতিবাচক ফল পাওয়ার দাবি করে রাজধানীতে এ ধরনের নজরদারি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ট্রাফিক আইন ভঙ্গের চারটি ক্ষেত্রে সাফল্যের কথা জানিয়ে, শিগগিরই আরও দুটি অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, এআই ক্যামেরার মাধ্যমে মামলা দেওয়ার পর রাজধানীর সড়কে উল্টো পথে গাড়ি চালানো, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা, জেব্রা ক্রসিংয়ের নিয়ম না মানা এবং যেখানে-সেখানে গাড়ি পার্কিংয়ের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

এ সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আগামী দিনে সিট বেল্ট না বাঁধা এবং গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহারকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশের। বর্তমানে রাজধানীর ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৩৭টি এআই ক্যামেরা চালু রয়েছে। ডিএমপির দাবি, এসব ক্যামেরা চালুর পর উল্টো পথে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়েছে। তবে পথচারীদের অনিয়ন্ত্রিতভাবে সড়ক পারাপার এবং যাত্রী ওঠানামার জন্য বাসের সড়ক দখল করে দাঁড়িয়ে থাকার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে এখনও চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

এই পরিস্থিতিতে পুরো রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় আনতে দেড় হাজারের বেশি এআই ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে ডিএমপি। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিসুর রহমান বলেন, “উল্টো পথে গাড়ি চালানোকে আমরা সবচেয়ে গুরুতর ট্রাফিক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করি। পর্যায়ক্রমে আরও কিছু বিষয় যুক্ত করা হবে। সিট বেল্ট না বাঁধা এবং গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহারও নজরদারির আওতায় আসবে।”

পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে পুলিশ জানায়, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং ভারী বৃষ্টির সময় এআই ক্যামেরা পরিচালনায় সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে জলাবদ্ধতার কারণে যানবাহনের গতি কমে গেলে প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বিঘ্ন ঘটে। এ বিষয়ে আনিসুর রহমান বলেন, “মাঝেমধ্যে বিদ্যুৎ চলে যায়, আবার বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এসব পরিস্থিতিতে ট্রাফিক সিস্টেম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। তবে এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে আমরা কাজ করছি।”

এদিকে রাজধানীর প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে ডিএমপি। এ ধরনের যানবাহন বন্ধে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে মহানগর পুলিশ।