বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় একটি আবাসিক মাদরাসার কক্ষ থেকে ১১ বছর বয়সী এক ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। তবে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছে।
সোমবার (১৯ জুলাই) দিবাগত রাতে উপজেলার গেরাকুল গ্রামের সীমান্তবর্তী কাসেমাবাদ এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। মৃত জান্নাতুল ফেরদাউজ (১১) রাজশাহীর নওগাঁ জেলার আত্রাই থানার নালুয়া গ্রামের বাসিন্দা সৌদি প্রবাসী মো. সান্টুর মেয়ে। সে শিশুকাল থেকেই তার নানা বাড়ি গৌরনদীর কাসেমাবাদ গ্রামের মৃত সাহেব আলী ফকিরের বাড়িতে বসবাস করে আসছিল।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গেরাকুল গ্রামের শিক্ষক জহুরুল ইসলাম আকনের কাসেমাবাদ এলাকার বাড়ি ভাড়া নিয়ে গত বছরের নভেম্বর মাসে দক্ষিণ পিঙ্গলাকাঠী গ্রামের বাসিন্দা মো. আবু ইউসুফ খন্দকার ‘মিফতাহুল জান্নাহ্ হিফজুল কুরআন মডেল মহিলা মাদরাসা’ নামে একটি আবাসিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। দুইজন নারী শিক্ষিকা দিয়ে ১৫ জন ছাত্রীকে নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়ে আসছে।
মৃত জান্নাতুল ফেরদাউজের মা সুর্বনা বেগম জানিয়েছেন, তার স্বামী প্রবাসে থাকার সুবাদে তিনি তার দুই মেয়ে নিয়ে বাবার বাড়ি কাসেমাবাদ গ্রামে বসবাস করে আসছেন। তিনি আরও জানান, তার মেয়ে জান্নাতুল ফেরদাউজ আবাসিক ওই মাদরাসার নাজেরা বিভাগে অধ্যায়নরত ছিল।
মাদরাসার একাধিক ছাত্রীরা জানায়, সোমবার সন্ধ্যার পর মাদরাসার একটি কক্ষ ভিতর থেকে বন্ধ দেখতে পেয়ে তাদের সন্দেহ হয়। পরে তারা জানালার গ্লাস দিয়ে উঁকি মেরে দেখে যে, ভিতরে কেউ জানালার গ্রিলের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে। এই দৃশ্য দেখে তারা ডাক-চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় লোকজন ও মাদরাসার দায়িত্বরত দুই শিক্ষিকা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। বন্ধ দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করে তারা জানালার গ্রিলের সাথে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় জান্নাতুল ফেরদাউজকে দেখতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে তারা তড়িঘড়ি করে ওই ছাত্রীকে নামানোর পর দেখেন সে (জান্নাতুল) মারা গেছে।
পরবর্তীতে স্থানীয়রা গৌরনদী মডেল থানায় খবর দেয়। গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. তারিক হাসান রাসেল জানিয়েছেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে মৃতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য থানায় আনা হয়েছে। একই সাথে পুরো বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
এদিকে, খবর পেয়ে মৃতের স্বজনরা ওই মাদরাসায় ছুটে এলে সেখানে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
রিপোর্টারের নাম 

























