ভোলার দৌলতখানে মেঘনার অস্বাভাবিক জোয়ার ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে চরাঞ্চলের অর্ধশতাধিক গরু-মহিষ ভেসে গেছে। ঘটনার তিন দিন অতিবাহিত হলেও নিখোঁজ এসব মহিষের কোনো সন্ধান মেলেনি। চরাঞ্চল থেকে ভেসে যাওয়া মহিষগুলো চুরি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন খামারিরা। তারা প্রশাসনের সহায়তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
উপজেলার নেয়ামতপুর ও হাজীপুর চরের গরু ও মহিষ বাতানের মালিক আবুল বসির মেম্বার জানান, গত শুক্রবার গভীর রাতে বৈরী আবহাওয়ায় আকস্মিক প্রবল জোয়ার ও জলোচ্ছ্বাসে রাখালদের টংঘর এবং মহিষের কেল্লা তলিয়ে যায়। এতে তার অর্ধশতাধিক গবাদি পশু ভেসে যায়। গত তিন দিনেও এসব নিখোঁজ গবাদি পশুর কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
রাখালরা জানিয়েছেন, জোয়ারের তীব্র স্রোতে এসব গবাদি পশু রাতের অন্ধকারে ভেসে গেছে। বাতানের লোকজন গত কয়েক দিন ধরে মেঘনার বুকে জেগে ওঠা বিভিন্ন চরাঞ্চল খুঁজে বেড়াচ্ছেন হারিয়ে যাওয়া গরু-মহিষ। আবুল বসির মেম্বার জানান, তার মালিকানার আটটি মহিষ এখনো পাওয়া যায়নি।
সাবেক কাউন্সিলর জাকির হোসেন বাবুল ও তার ভাই আবুল হোসেন জানান, নেয়ামতপুর চরের মহিষের বাতানের কেল্লা থেকে ভেসে যাওয়া সাতটি মহিষ এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। ভেসে যাওয়া এসব মহিষ চুরি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও করছেন তারা। এই ঘটনায় দৌলতখান থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।
এছাড়া মদনপুর, মেদুয়া, হাজারী ও হাজীপুর চরেও জোয়ারের কারণে রাখালদের বাতান ঘর তলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি এসব গবাদি পশুর ওষুধ ও বিভিন্ন সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মালিকদের মধ্যে হাজি আকবর ও মোশাররফ মিয়ার নাম জানা গেছে। অস্বাভাবিক জোয়ারে চরাঞ্চল থেকে ভেসে যাওয়া প্রায় অর্ধকোটি টাকার গরু ও মহিষ চুরি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় খামারিরা এখন চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিনযাপন করছেন।
রিপোর্টারের নাম 























