ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত এলাকায় টানা দশম রাতের মতো শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সিরিক, বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ, চাবাহার ও কোনারাকসহ বেশ কিছু অঞ্চলে ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে তেহরান। দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে পুরো অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সম্প্রতি জর্ডান ও ইরাকে তিন মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনায় ইরানকে সরাসরি দায়ী করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মার্কিন সেনাদের জীবনের বিনিময়ে ইরানকে ‘বহুগুণ মূল্য’ চুকাতে হবে। সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় ইরানের সামরিক ও যোগাযোগ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে এই জোরালো অভিযান শুরু করে পেন্টাগন। ট্রাম্প জানান, নিহত সেনাদের স্মরণে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিতেই এই আক্রমণ চালানো হচ্ছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বর্তমান পরিস্থিতিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে ইরানও বাহরাইন, জর্ডান ও সিরিয়ার বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ সক্ষমতা ধ্বংস করতেই তাদের এই অভিযান। শেষ দফার হামলায় ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, মার্কিন হামলায় তাবরিজ ও বন্দর ইমাম খোমেনিসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। অন্যদিকে, কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা তাদের ভূখণ্ডে ধেয়ে আসা ইরানের বেশ কিছু ড্রোন প্রতিহত করেছে। জর্ডান ও বাহরাইনও তাদের আকাশসীমায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার চেষ্টার কথা স্বীকার করেছে। এর মাঝেই হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে, যা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
রিপোর্টারের নাম 
























