গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশে উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে হামের প্রাদুর্ভাব। গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে (অর্থাৎ সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু করে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারা দেশে হাম ও হামের বিভিন্ন মারাত্মক উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও চারজন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এর মাধ্যমে চলতি বছরের গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ ২১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত চার মাসেরও বেশি সময়কালে দেশে হাম ও হামের তীব্র উপসর্গে সর্বমোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৯৭ জনে, যা প্রায় ৮০০-এর ঘর স্পর্শ করতে চলেছে।
আজ মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রকাশিত নিয়মিত হামবিষয়ক বিশেষ আপডেট প্রতিবেদনে অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে এসব সর্বশেষ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এর আগে গত ২৬ জুন দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট শিশুর মৃত্যুর সংখ্যা ৭০০-এর ঘর অতিক্রম করেছিল। ওই দিন পর্যন্ত সব মিলিয়ে আক্রান্ত ৭০২ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছিল। তবে সেই করুণ রেকর্ডের পর মাত্র ২৬ দিনের ব্যবধানে দেশে নতুন করে আরও প্রায় একশত শিশুর প্রাণহানি ঘটলো, যার ফলে মোট মৃত্যুসংখ্যা এখন ৮০০-এর প্রায় কাছাকাছি পৌছে গেছে।
সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে মারা যাওয়া চার শিশুর ভৌগোলিক অবস্থান বিশ্লেষণে জানা যায়, এদের মধ্যে সিলেট বিভাগে দুজন, রাজশাহী বিভাগে একজন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে আরও একজন শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।
গত ২৪ ঘণ্টার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সারা দেশে নতুন করে হাম ও হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে মোট এক হাজার আটজন শিশু অসুস্থ ও আক্রান্ত হয়েছে। এই আক্রান্তদের মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে সরাসরি হাম রোগ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে ১৩০ জন শিশুর শরীরে। অন্যদিকে, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত চার মাসেরও বেশি সময়কালে দেশজুড়ে হাম ও হামের নানা উপসর্গে মোট আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩৪ হাজার ১৫৬ জনে। এই বিশাল সংখ্যক আক্রান্তের মধ্যে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় সরাসরি হামে আক্রান্ত হিসেবে নিশ্চিত শনাক্ত হয়েছে ১৪ হাজার ৭০৮ জন শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংরক্ষিত সার্বিক তথ্য আরও বলছে যে, চলতি ২০২৬ সালের ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত শুধু হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সরাসরি চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়েছিল মোট এক লাখ দুই হাজার ২৪৪ জন শিশু। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এই বিপুলসংখ্যক শিশুদের মধ্যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা গ্রহণ শেষে সুস্থ হয়ে ইতিপূর্বে নিজের বাড়িতে ফিরে যেতে সক্ষম হয়েছে ৯৮ হাজার ৪১১ জন শিশু।
রিপোর্টারের নাম 
























