ঢাকা ০৮:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

রাঙামাটির বর্ষা: ভূমিধসের আতঙ্ক, স্বপ্ন পূরণে উয়াইনচিমার সংগ্রাম

গত কয়েক দিন ধরে রাঙামাটির পাহাড়ি অঞ্চলে থেমে থেমে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে, যা সেখানকার জনজীবনে একধরনের দুর্ভোগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বর্ষা এলেই প্রতি বছর পাহাড়ি ঢল এবং ভূমিধসের আশঙ্কায় দিন কাটে এখানকার বাসিন্দাদের। একটানা বৃষ্টিতে নদীগুলোর পানি বেড়ে যায়, তীব্র স্রোতে ভেসে যায় ঘরবাড়ি, তলিয়ে যায় আশপাশের জনপদ। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ হলো আকস্মিক পাহাড় ধসের ঘটনা, যা কখন ঘটবে তা আগে থেকে অনুমান করা কঠিন। রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির মতো তিন পার্বত্য জেলায় বর্ষা এলেই এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়ে একধরনের উদ্বেগ বিরাজ করে।

প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করেও এখানকার মানুষ জীবনের স্বাভাবিক গতি ধরে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী উয়াইনচিমা মারমা তাদেরই একজন। পাহাড়ের পাদদেশে তাদের ছোট বসতবাড়ি, যেখানে তার মতো আরও অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে। দশ বছর বয়সী উয়াইনচিমা দারিদ্র্য ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও বড় স্বপ্ন দেখে। সে লেখাপড়া করে একজন সরকারি কর্মকর্তা হতে চায়, যাতে তার দরিদ্র বাবা-মায়ের দুঃখ ঘুচাতে পারে এবং ছোট ভাইবোনদেরও শিক্ষিত করে তুলতে পারে।

উয়াইনচিমার বড় বোন আনুমা অভাবের কারণে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারেননি, বর্তমানে তিনি কক্সবাজারে এক আত্মীয়ের বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছেন। বোনের এই পরিস্থিতি উয়াইনচিমাকে আরও বেশি করে স্বপ্ন দেখতে ও পরিশ্রম করতে উৎসাহিত করে। প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যেও সে বন্ধুদের বাড়িতে পড়তে যায়, নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যায়। রাঙামাটির এই সংগ্রামী মানুষগুলো প্রকৃতির বিরূপ আচরণে অভ্যস্ত হয়েও তাদের অদম্য সাহস আর স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উথলী রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি পেশ

রাঙামাটির বর্ষা: ভূমিধসের আতঙ্ক, স্বপ্ন পূরণে উয়াইনচিমার সংগ্রাম

আপডেট সময় : ০৩:২৯:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

গত কয়েক দিন ধরে রাঙামাটির পাহাড়ি অঞ্চলে থেমে থেমে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে, যা সেখানকার জনজীবনে একধরনের দুর্ভোগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বর্ষা এলেই প্রতি বছর পাহাড়ি ঢল এবং ভূমিধসের আশঙ্কায় দিন কাটে এখানকার বাসিন্দাদের। একটানা বৃষ্টিতে নদীগুলোর পানি বেড়ে যায়, তীব্র স্রোতে ভেসে যায় ঘরবাড়ি, তলিয়ে যায় আশপাশের জনপদ। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ হলো আকস্মিক পাহাড় ধসের ঘটনা, যা কখন ঘটবে তা আগে থেকে অনুমান করা কঠিন। রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির মতো তিন পার্বত্য জেলায় বর্ষা এলেই এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়ে একধরনের উদ্বেগ বিরাজ করে।

প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করেও এখানকার মানুষ জীবনের স্বাভাবিক গতি ধরে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী উয়াইনচিমা মারমা তাদেরই একজন। পাহাড়ের পাদদেশে তাদের ছোট বসতবাড়ি, যেখানে তার মতো আরও অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে। দশ বছর বয়সী উয়াইনচিমা দারিদ্র্য ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও বড় স্বপ্ন দেখে। সে লেখাপড়া করে একজন সরকারি কর্মকর্তা হতে চায়, যাতে তার দরিদ্র বাবা-মায়ের দুঃখ ঘুচাতে পারে এবং ছোট ভাইবোনদেরও শিক্ষিত করে তুলতে পারে।

উয়াইনচিমার বড় বোন আনুমা অভাবের কারণে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারেননি, বর্তমানে তিনি কক্সবাজারে এক আত্মীয়ের বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছেন। বোনের এই পরিস্থিতি উয়াইনচিমাকে আরও বেশি করে স্বপ্ন দেখতে ও পরিশ্রম করতে উৎসাহিত করে। প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যেও সে বন্ধুদের বাড়িতে পড়তে যায়, নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যায়। রাঙামাটির এই সংগ্রামী মানুষগুলো প্রকৃতির বিরূপ আচরণে অভ্যস্ত হয়েও তাদের অদম্য সাহস আর স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।