ঢাকা ০৮:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

জিয়া হত্যা মামলা: পলাতক মেজর মোজাফফরের বিচার নিয়ে ভিন্নমত, আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল নাকি কোর্ট মার্শাল?

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম পলাতক আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন জটিলতা দেখা দিয়েছে। প্রসিকিউশন তার বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করার জন্য আবেদন করেছে, অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন তার বিচার জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে সেনা আইনে নিশ্চিত করা হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে প্রধান প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তাদের তদন্তে গ্রেপ্তারকৃত আরেক আসামি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে মোজাফফর হোসেনের বিভিন্ন সময়ে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। এর ভিত্তিতেই তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার আবেদন করা হয়েছে।

তবে এর আগে সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর পিলখানায় শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, মেজর (অব.) মোজাফফরের বিচার সেনা আইনে জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মোজাফফরের সহযোগীদের বিচারও সামরিক আদালতে হয়েছে। তিনি দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে ভিন্ন পরিচয়ে পার্শ্ববর্তী একটি দেশে পলাতক ছিলেন। গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরদিন ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এই দুই ভিন্ন বক্তব্যের কারণে মোজাফফরের বিচার কোন প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হবে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার মতো একটি উচ্চপর্যায়ের ও স্পর্শকাতর মামলার প্রধান আসামির বিচার পদ্ধতি নিয়ে এই মতভেদ দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থায় এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজ ৫০৫৬৪৮ টাকা, বিমানভাড়া কমল ২৪ হাজার

জিয়া হত্যা মামলা: পলাতক মেজর মোজাফফরের বিচার নিয়ে ভিন্নমত, আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল নাকি কোর্ট মার্শাল?

আপডেট সময় : ০২:২৬:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম পলাতক আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন জটিলতা দেখা দিয়েছে। প্রসিকিউশন তার বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করার জন্য আবেদন করেছে, অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন তার বিচার জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে সেনা আইনে নিশ্চিত করা হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে প্রধান প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তাদের তদন্তে গ্রেপ্তারকৃত আরেক আসামি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে মোজাফফর হোসেনের বিভিন্ন সময়ে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। এর ভিত্তিতেই তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার আবেদন করা হয়েছে।

তবে এর আগে সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর পিলখানায় শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, মেজর (অব.) মোজাফফরের বিচার সেনা আইনে জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মোজাফফরের সহযোগীদের বিচারও সামরিক আদালতে হয়েছে। তিনি দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে ভিন্ন পরিচয়ে পার্শ্ববর্তী একটি দেশে পলাতক ছিলেন। গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরদিন ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এই দুই ভিন্ন বক্তব্যের কারণে মোজাফফরের বিচার কোন প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হবে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার মতো একটি উচ্চপর্যায়ের ও স্পর্শকাতর মামলার প্রধান আসামির বিচার পদ্ধতি নিয়ে এই মতভেদ দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থায় এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।