ঢাকা ০৮:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

ভারতে নির্মাণাধীন সুড়ঙ্গ ধসে ৯ জনের মৃত্যু, ১৫ জন আটকা

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নির্মাণাধীন একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ ধসে অন্তত ৯ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এখনো ১৫ জন সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা পড়ে আছেন বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

গতকাল সোমবার হিমালয় সংলগ্ন সিকিম রাজ্যে এই দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে তিস্তা নদীর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য একটি সুড়ঙ্গ নির্মাণের কাজ চলছিল। সিকিম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের পরিচালক রাজীব রোকা এএফপিকে জানিয়েছেন, ‘আমাদের ধারণা, প্রায় ২৫ থেকে ২৭ জন সুড়ঙ্গে আটকা পড়েছিলেন। এ পর্যন্ত ৯টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।’

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একটি বিস্ফোরণের কারণে সুড়ঙ্গটি ধসে পড়ে। তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এই অঞ্চলে টানা ভারী মৌসুমি বৃষ্টি হয়েছে। রাজীব রোকা বলেন, ‘সুড়ঙ্গের অনেক গভীরে বিস্ফোরণটি ঘটেছে, তাই এর কারণ সম্পর্কে আমরা নিশ্চিত নই। সম্ভবত এটি প্রাকৃতিক কারণেই ঘটেছে।’

কর্মকর্তারা জানান, ভূগর্ভস্থ শিলাস্তর থেকে নির্গত বিষাক্ত মিথেন গ্যাস উদ্ধারকাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে শুধু অক্সিজেন সরঞ্জাম বহনকারী উদ্ধারকারী দলগুলোই সুড়ঙ্গে প্রবেশ করতে পারছে। রোকা বলেন, ‘জোরালো উদ্ধার অভিযান চলছে, তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সেখানে প্রচুর গ্যাস রয়েছে।’ তিনি আরও জানান, খনি দুর্ঘটনায় উদ্ধারকাজে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একটি বিশেষজ্ঞ দলকে বিমানযোগে ঘটনাস্থলে আনা হয়েছে।

ভারতে বড় অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পে দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে। তবে পরিবেশবিদদের মতে, হিমালয়ের নাজুক পরিবেশে অতিরিক্ত উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে এ ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি বেড়েছে। ২০২৩ সালে উত্তরাখণ্ড রাজ্যে হিমালয়ের একটি সড়ক সুড়ঙ্গ ধসে ৪১ জন শ্রমিক আটকা পড়েছিলেন; ১৭ দিন পর তাদের জীবিত উদ্ধার করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উথলী রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি পেশ

ভারতে নির্মাণাধীন সুড়ঙ্গ ধসে ৯ জনের মৃত্যু, ১৫ জন আটকা

আপডেট সময় : ০৩:৩৩:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নির্মাণাধীন একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ ধসে অন্তত ৯ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এখনো ১৫ জন সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা পড়ে আছেন বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

গতকাল সোমবার হিমালয় সংলগ্ন সিকিম রাজ্যে এই দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে তিস্তা নদীর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য একটি সুড়ঙ্গ নির্মাণের কাজ চলছিল। সিকিম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের পরিচালক রাজীব রোকা এএফপিকে জানিয়েছেন, ‘আমাদের ধারণা, প্রায় ২৫ থেকে ২৭ জন সুড়ঙ্গে আটকা পড়েছিলেন। এ পর্যন্ত ৯টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।’

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একটি বিস্ফোরণের কারণে সুড়ঙ্গটি ধসে পড়ে। তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এই অঞ্চলে টানা ভারী মৌসুমি বৃষ্টি হয়েছে। রাজীব রোকা বলেন, ‘সুড়ঙ্গের অনেক গভীরে বিস্ফোরণটি ঘটেছে, তাই এর কারণ সম্পর্কে আমরা নিশ্চিত নই। সম্ভবত এটি প্রাকৃতিক কারণেই ঘটেছে।’

কর্মকর্তারা জানান, ভূগর্ভস্থ শিলাস্তর থেকে নির্গত বিষাক্ত মিথেন গ্যাস উদ্ধারকাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে শুধু অক্সিজেন সরঞ্জাম বহনকারী উদ্ধারকারী দলগুলোই সুড়ঙ্গে প্রবেশ করতে পারছে। রোকা বলেন, ‘জোরালো উদ্ধার অভিযান চলছে, তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সেখানে প্রচুর গ্যাস রয়েছে।’ তিনি আরও জানান, খনি দুর্ঘটনায় উদ্ধারকাজে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একটি বিশেষজ্ঞ দলকে বিমানযোগে ঘটনাস্থলে আনা হয়েছে।

ভারতে বড় অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পে দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে। তবে পরিবেশবিদদের মতে, হিমালয়ের নাজুক পরিবেশে অতিরিক্ত উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে এ ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি বেড়েছে। ২০২৩ সালে উত্তরাখণ্ড রাজ্যে হিমালয়ের একটি সড়ক সুড়ঙ্গ ধসে ৪১ জন শ্রমিক আটকা পড়েছিলেন; ১৭ দিন পর তাদের জীবিত উদ্ধার করা হয়।