বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে স্পেনের জয়ে যখন মাদ্রিদের রাস্তায় উৎসবের জোয়ার, ঠিক তখনই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজায় দেখা গেল এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। বোমার শব্দ আর মৃত্যুর মিছিলের মাঝেও গাজার মানুষ স্পেনের বিশ্বজয়কে উদযাপন করেছে নিজেদের বিজয় হিসেবে। কেউ মোবাইল ফোনে, কেউবা জেনারেটরের সীমিত বিদ্যুতে টেলিভিশন চালিয়ে উপভোগ করেছেন ফেরান তোরেসের সেই জয়সূচক গোলটি।
গাজাবাসীর এই উল্লাসের পেছনে কেবল ফুটবল প্রেম নয়, বরং লুকিয়ে আছে গভীর কৃতজ্ঞতা ও রাজনৈতিক সংহতি। স্পেন বিশ্বের অন্যতম দেশ যারা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বারবার গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। আন্তর্জাতিক চাপের মুখেও মাদ্রিদ তাদের এই মানবিক অবস্থান থেকে একচুলও নড়েনি, যা গাজার মানুষের হৃদয়ে স্পেনের জন্য বিশেষ জায়গা করে দিয়েছে।
অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্ব ইসরায়েলের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানানোয় গাজার মানুষের মধ্যে এক ধরনের ক্ষোভ ছিল। তাই এই ফাইনালটি তাদের কাছে কেবল দুটি দলের লড়াই ছিল না, বরং ছিল আদর্শিক অবস্থানের লড়াই। গাজার ফুটবল কোচ হাতেম আল-মাগরিবির মতে, যারা কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ায়, তাদের সাফল্যে আনন্দ করা কৃতজ্ঞতারই অংশ। ফুটবল মাঠের জয় তাই ভূ-রাজনীতির সীমানা পেরিয়ে গাজায় মানবিক বিজয়ের বার্তা নিয়ে এসেছে।
রিপোর্টারের নাম 
























