আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কিছু সাধারণ অভ্যাস অজান্তেই স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের ভুল জীবনযাপন ঘুমের সমস্যা, শারীরিক ব্যথা থেকে শুরু করে নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই সুস্থ জীবনযাপনের জন্য এসব অভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি।
ঘুমের সময় মোবাইল ফোনের ব্যবহার: বর্তমানে অনেকেই রাতে ঘুমানোর সময় মোবাইল ফোন বিছানার পাশে বা মাথার কাছে রাখেন। কেউ কেউ ফোনকে অ্যালার্ম ঘড়ি হিসেবেও ব্যবহার করেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাথার খুব কাছে মোবাইল ফোন রাখলে ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হতে পারে। ফোনের উপস্থিতি মানুষকে অবচেতনভাবে কল, বার্তা বা নোটিফিকেশনের অপেক্ষায় রাখে, ফলে মস্তিষ্ক পুরোপুরি বিশ্রামের অবস্থায় যেতে পারে না। এছাড়াও, ফোনের স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো চোখের মাধ্যমে মস্তিষ্কে সংকেত পাঠিয়ে ঘুমের প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ভালো ঘুমের জন্য ফোন মাথা থেকে অন্তত ২০ সেন্টিমিটার দূরে রাখা উচিত এবং সন্ধ্যার পর থেকে প্রযুক্তি ব্যবহার কমিয়ে আনা জরুরি। রাতে অ্যালার্ম ঘড়ি ব্যবহার করা একটি ভালো অভ্যাস হতে পারে।
চেয়ার ও পিঠের সঠিক দূরত্ব বজায় না রাখা: কম্পিউটার, ট্যাবলেট বা ল্যাপটপ ব্যবহারের সময় ভুল ভঙ্গিতে বসা পিঠ ও ঘাড় ব্যথার অন্যতম প্রধান কারণ। দীর্ঘ সময় ধরে ডেস্কে বসে কাজ করলে মেরুদণ্ডের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং ধীরে ধীরে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন দীর্ঘক্ষণ একই অবস্থানে বসে থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর, বিশেষ করে যদি বসার ভঙ্গি সঠিক না হয়। বসার সময় মেরুদণ্ড সোজা রাখা, পা মেঝেতে সমানভাবে রাখা এবং দীর্ঘক্ষণ কাজের মাঝে নিয়মিত বিরতি নিয়ে শরীর নড়াচড়া করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ত্বকের যত্নে সানস্ক্রিনের গুরুত্ব এড়িয়ে যাওয়া: অনেকেই সানস্ক্রিন ব্যবহারকে বাড়তি ঝামেলা মনে করেন। কিন্তু সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করতে সানস্ক্রিনের ভূমিকা অপরিসীম। অতিরিক্ত রোদে থাকার কারণে ত্বকে দাগ, অকাল বার্ধক্য এবং কিছু ক্ষেত্রে ত্বকের ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘাড়, কান, কাঁধ, মাথা, বাহু ও পায়ের মতো অংশে সূর্যের প্রভাব বেশি পড়ে। তাই এসব জায়গার সুরক্ষায় বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। বাইরে যাওয়ার আগে শরীরের উন্মুক্ত অংশে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত।
রিপোর্টারের নাম 

























