গুমের শিকার ব্যক্তিদের ওপর চালানো হতো অবর্ণনীয় ও লোমহর্ষক নির্যাতন। বৈদ্যুতিক শক, হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত কিংবা অ্যানেস্থেসিয়া প্রয়োগের মাধ্যমে অজ্ঞান করে চালানো হতো এই পৈশাচিকতা। অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতনের তীব্রতায় ভুক্তভোগীদের মাথার খুলি ফেটে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হতো। মঙ্গলবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব তথ্য জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
তিনি জানান, সাদা বা কালো পোশাকধারী বাহিনী হঠাৎ করেই রাস্তা থেকে মানুষকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যেত। এরপর তাদের বিভিন্ন গোপন বন্দিশালায় আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালানো হতো। আঙুলে সূচ ফোটানো, চোখ তুলে নেওয়া কিংবা জীবিত অবস্থায় শরীর থেকে মাংস তুলে ফেলার মতো ভয়ঙ্কর সব ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, এই বন্দিশালাগুলোর ভয়াবহতা কোনো হরর সিনেমার চেয়ে কম নয়।
তাজুল ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, নির্যাতনের পর যাদের ভাগ্য সহায় হতো, তাদের মিথ্যা মামলায় জেলে পাঠানো হতো অথবা চোখ বেঁধে নির্জন স্থানে ফেলে রাখা হতো। তবে যাদের ভাগ্য ভালো ছিল না, তাদের মাথায় গুলি করে কিংবা পেটে ধারালো অস্ত্র চালিয়ে সিমেন্টের বস্তায় ভরে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হতো। ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: সাম্প্রতিক ভাবনা’ শীর্ষক এই সেমিনারে গুম-খুনের এসব ভয়াবহ চিত্র উঠে আসে।
রিপোর্টারের নাম 
























