বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য যুক্তরাজ্যে সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। বছর শেষে দেশটিতে মোট রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় মাত্র ১ শতাংশ বেশি। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
অর্থবছরের রপ্তানি চিত্র (২০২৫-২৬)
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ৯৩ দশমিক ৮ শতাংশই তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে। পোশাক খাতের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নিটওয়্যার খাতের ওপর ভর করেই মূলত রপ্তানি ইতিবাচক ধারায় টিকে আছে।
| পণ্যের ধরন | রপ্তানি মূল্য (বিলিয়ন ডলার) | প্রবৃদ্ধির হার (%) |
| নিটওয়্যার | ২.৭০ | +১.৫৮% |
| ওভেন পোশাক | ১.৬৮ | -০.১৫% |
| মোট পোশাক রপ্তানি | ৪.৩৮ | +০.৯১% |
(উৎস: প্রতিবেদন অনুযায়ী)
প্রবৃদ্ধি সীমিত থাকার কারণসমূহ
অর্থনীতিবিদ ও শিল্প উদ্যোক্তাদের মতে, বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের কারণে এই ধীরগতি তৈরি হয়েছে:
১. ভোক্তা চাহিদার স্থবিরতা: যুক্তরাজ্যে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে পোশাকের চাহিদায়।
২. সতর্ক ক্রয়নীতি: আন্তর্জাতিক খুচরা বিক্রেতা ও ব্র্যান্ডগুলো অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে অর্ডার দিচ্ছে।
৩. পণ্যে বৈচিত্র্যের অভাব: বাংলাদেশের রপ্তানি ঝুড়ি এখনো তৈরি পোশাকনির্ভর। প্রযুক্তিগত পণ্য, চামড়া বা কৃষিপ্রক্রিয়াজাত পণ্যের মতো বৈচিত্র্যময় পণ্যের অভাব প্রতিযোগিতামূলক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থানকে দুর্বল করছে।
৪. প্রতিযোগিতার চাপ: প্রতিযোগী দেশগুলো উচ্চমূল্য সংযোজনকারী পণ্য নিয়ে বাজারে এগিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের ওপর চাপের সৃষ্টি হয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের পথ
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, “কেবল তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর পণ্য, চামড়া ও কৃষিপ্রক্রিয়াজাত পণ্যের দিকে নজর দিতে হবে।” এছাড়া বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মাদ হাতেম মনে করেন, টেকসই পোশাক ও দ্রুত সরবরাহ সক্ষমতা বাড়াতে পারলে যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির বিষয় হলো, বিশ্বের মোট পোশাক রপ্তানিতে যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের অংশ ১১ দশমিক ০৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ১১ দশমিক ৩৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। তবে প্রবৃদ্ধির এই ধীরগতি টেকসই করার জন্য পণ্য বহুমুখীকরণ ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই।
রিপোর্টারের নাম 

























