বাংলাদেশে বর্ষা মৌসুম দেরিতে শুরু হওয়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ এবার দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ১০ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার এবং মৃতের সংখ্যা ২৪ জন। তবে কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশারের মতে, বর্তমানে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শহরে এডিস মশার ঘনত্ব বা ইনডেস্ক ২০-এর উপরে রয়েছে, যা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির স্পষ্ট লক্ষণ। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে এই ঝুঁকি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। ঢাকার বাইরেও বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বে-নজীর আহমেদ প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে লোকবল এবং বিশেষজ্ঞ কীটতত্ত্ববিদের অভাব রয়েছে। ফলে সংকটাপন্ন রোগীরা যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছে না এবং মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা ডেঙ্গু ঝুঁকি কমাতে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি সমন্বিত ও জোরালো মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনার ওপর জোর দিচ্ছেন। কেবল সরকারি উদ্যোগ নয়, বাড়ির আশেপাশে জমে থাকা স্বচ্ছ পানি অপসারণের মাধ্যমে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। আগস্ট-সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ পরিস্থিতি এড়াতে এখন থেকেই দীর্ঘমেয়াদী ও কঠোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।
রিপোর্টারের নাম 























