ঢাকা ০২:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে লটকনের প্রলোভনে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে প্রতিবেশী গ্রেপ্তার

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে লটকন ফল দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে বৈদ্যনাথ রায় (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা দেবীগঞ্জ থানায় এজাহার জমা দিলে তা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। পরে শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে পুলিশ ও ডিবির যৌথ অভিযানে বোদা এলাকা থেকে বৈদ্যনাথকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত বৈদ্যনাথ রায় উপজেলার পামুলী ইউনিয়নের ঢাঙ্গীরহাট বৈরাগীপাড়া এলাকার রামচরণ রায়ের ছেলে। ঘটনার জানাজানির পর শুক্রবার তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন।

এর আগে শুক্রবার দুপুরে ভুক্তভোগী শিশুটিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় প্রথমে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পারিবারিক ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত বৈদ্যনাথ রায় গত এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেশী আরও এক হিন্দু শিশু ও এক মুসলিম শিশুকে পৃথকভাবে নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে একই ধরনের অপচেষ্টা চালিয়েছিল। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার বিকেলে লটকন দেওয়ার কথা বলে বর্তমান ভুক্তভোগী শিশুটিকে নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে বৈদ্যনাথ।

শিশুটির মা জানান, দীর্ঘক্ষণ মেয়েকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করলে স্থানীয় শিশুরা জানায় বৈদ্যনাথ তার মেয়েকে ঘরের দিকে নিয়ে গেছে। প্রথমবারে সন্ধান না পেলেও, দ্বিতীয়বার খুঁজতে গেলে অভিযুক্তের ভাতিজা জানায় শিশুটিকে টয়লেটে আটকে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, বৈদ্যনাথ তার মেয়েকে ঘরে নিয়ে পোশাক খুলে ধর্ষণ করে। প্রাথমিকভাবে শিশুটি তেমন কিছু বুঝতে না পারলেও, শুক্রবার সকালে ঘুম থেকে উঠে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং ঠিকভাবে হাঁটতে পারছিল না। এরপর বেলা ৩টার দিকে তাকে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়।

জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তানিয়া জাহান সুকন্যা প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে যৌন নিপীড়নের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এরপর উন্নত চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য শিশুটিকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়। বর্তমানে শিশুটি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় প্রেসক্লাব সম্পাদক: সাংবাদিকতাকে দলীয়করণ নয়, সমাজের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরুন

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে লটকনের প্রলোভনে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে প্রতিবেশী গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০১:২৭:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে লটকন ফল দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে বৈদ্যনাথ রায় (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা দেবীগঞ্জ থানায় এজাহার জমা দিলে তা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। পরে শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে পুলিশ ও ডিবির যৌথ অভিযানে বোদা এলাকা থেকে বৈদ্যনাথকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত বৈদ্যনাথ রায় উপজেলার পামুলী ইউনিয়নের ঢাঙ্গীরহাট বৈরাগীপাড়া এলাকার রামচরণ রায়ের ছেলে। ঘটনার জানাজানির পর শুক্রবার তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন।

এর আগে শুক্রবার দুপুরে ভুক্তভোগী শিশুটিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় প্রথমে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পারিবারিক ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত বৈদ্যনাথ রায় গত এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেশী আরও এক হিন্দু শিশু ও এক মুসলিম শিশুকে পৃথকভাবে নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে একই ধরনের অপচেষ্টা চালিয়েছিল। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার বিকেলে লটকন দেওয়ার কথা বলে বর্তমান ভুক্তভোগী শিশুটিকে নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে বৈদ্যনাথ।

শিশুটির মা জানান, দীর্ঘক্ষণ মেয়েকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করলে স্থানীয় শিশুরা জানায় বৈদ্যনাথ তার মেয়েকে ঘরের দিকে নিয়ে গেছে। প্রথমবারে সন্ধান না পেলেও, দ্বিতীয়বার খুঁজতে গেলে অভিযুক্তের ভাতিজা জানায় শিশুটিকে টয়লেটে আটকে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, বৈদ্যনাথ তার মেয়েকে ঘরে নিয়ে পোশাক খুলে ধর্ষণ করে। প্রাথমিকভাবে শিশুটি তেমন কিছু বুঝতে না পারলেও, শুক্রবার সকালে ঘুম থেকে উঠে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং ঠিকভাবে হাঁটতে পারছিল না। এরপর বেলা ৩টার দিকে তাকে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়।

জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তানিয়া জাহান সুকন্যা প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে যৌন নিপীড়নের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এরপর উন্নত চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য শিশুটিকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়। বর্তমানে শিশুটি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।