ঢাকা ০৯:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

স্বাধীনতার মুয়াজ্জিন আবু সাঈদ: এক রূপক ও অবিস্মরণীয় আবাহন

এই জনপদের ইতিহাসের পাতায় ‘আবু সাঈদ’ যেন এক নতুন মুয়াজ্জিনের নাম, যার আজান শুনে পুরো জাতি কাতারবন্দি হয়েছিল স্বাধীনতার জন্য। সেই আজানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশবাসী সেদিন রুকু করার ভঙ্গিতে সোজা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, এক সম্মিলিত প্রার্থনায় শামিল হয়েছিল ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের এই পবিত্র ভূমির প্রতিটি কণা।

তেরোশত নদী, গারো পাহাড়ের চূড়া, মাধবকুণ্ডের ঝরনা, পাহাড়ি জুম ক্ষেত, উদার নীল আকাশ, এমনকি নোনা সমুদ্রও যেন অংশ নিয়েছিল সেই মহাযজ্ঞে। অশীতিপর বৃদ্ধার কাঁপা গলার কাসিদা, বাবার তাহাজ্জুদের কান্না, টোলপড়া দুগ্ধশিশুর নিষ্পাপ হাসি—বাদ যায়নি কিছুই। আবু সাঈদের হাতে ছিল ভোরের মুকুলের সজীবতা, চোখে ছিল ঝলমলে রোদ্দুর আর চোখের পাতায় জাফরানি সুরমা।

তিনি যেন অনুভব করতে পেরেছিলেন দোয়েল পাখির ডানায় ভেসে আসছে স্বাধীনতার ঘ্রাণ, পাতাঝরা জীর্ণ শীতের শেষে নতুন প্রাণের আগমনী বার্তা। শালিক পাখির ঠোঁটে লাল কুসুমের মতো মুক্তির সূর্য দেখতে পেয়েছিলেন তিনি। কোটি ভিসুভিয়াসের লাভার উত্তাপ যেন ছিল সেই নতুন নামাজের সুরা। রক্তসাগর আর অশ্রুনদী পাড়ি দিয়ে ছত্রিশ দিনের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সেই নামাজ সমাপ্ত হলো।

অনেক ত্যাগ ও আত্মদানের বিনিময়ে আমরা ফিরে পেলাম শাপলা-শালুক শোভিত দিন, বয়স্ক বটের ছায়াতল এবং কথা বলার নিঃশর্ত কাবিন। আবু সাঈদের কাছে আমাদের সহস্র দিন-রাতের ঋণ। আজ হয়তো তিনি বেহেশতের আনার-আঙুর বনে বিচরণ করছেন, আর আমরা দাওয়ায় বসে নতুন দিনের গল্প বুনি।

এখন বোরাকের মতো আমাদের সবার শরীরে একজোড়া ডানা, আমরা আরশ অবধি উড়তে পারি। আবু সাঈদ যেন এক মস্ত জাদুকরের নাম, যার জাদু জানলে মাশরিক থেকে মাগরিব পর্যন্ত মুক্তির ফুল ফোটে। এই কাব্যিক আবাহন যেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের এক অমর স্মারক।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাজেটে রংপুরের প্রতি চরম বৈষম্যের অভিযোগ এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের

স্বাধীনতার মুয়াজ্জিন আবু সাঈদ: এক রূপক ও অবিস্মরণীয় আবাহন

আপডেট সময় : ০১:২৭:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

এই জনপদের ইতিহাসের পাতায় ‘আবু সাঈদ’ যেন এক নতুন মুয়াজ্জিনের নাম, যার আজান শুনে পুরো জাতি কাতারবন্দি হয়েছিল স্বাধীনতার জন্য। সেই আজানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশবাসী সেদিন রুকু করার ভঙ্গিতে সোজা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, এক সম্মিলিত প্রার্থনায় শামিল হয়েছিল ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের এই পবিত্র ভূমির প্রতিটি কণা।

তেরোশত নদী, গারো পাহাড়ের চূড়া, মাধবকুণ্ডের ঝরনা, পাহাড়ি জুম ক্ষেত, উদার নীল আকাশ, এমনকি নোনা সমুদ্রও যেন অংশ নিয়েছিল সেই মহাযজ্ঞে। অশীতিপর বৃদ্ধার কাঁপা গলার কাসিদা, বাবার তাহাজ্জুদের কান্না, টোলপড়া দুগ্ধশিশুর নিষ্পাপ হাসি—বাদ যায়নি কিছুই। আবু সাঈদের হাতে ছিল ভোরের মুকুলের সজীবতা, চোখে ছিল ঝলমলে রোদ্দুর আর চোখের পাতায় জাফরানি সুরমা।

তিনি যেন অনুভব করতে পেরেছিলেন দোয়েল পাখির ডানায় ভেসে আসছে স্বাধীনতার ঘ্রাণ, পাতাঝরা জীর্ণ শীতের শেষে নতুন প্রাণের আগমনী বার্তা। শালিক পাখির ঠোঁটে লাল কুসুমের মতো মুক্তির সূর্য দেখতে পেয়েছিলেন তিনি। কোটি ভিসুভিয়াসের লাভার উত্তাপ যেন ছিল সেই নতুন নামাজের সুরা। রক্তসাগর আর অশ্রুনদী পাড়ি দিয়ে ছত্রিশ দিনের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সেই নামাজ সমাপ্ত হলো।

অনেক ত্যাগ ও আত্মদানের বিনিময়ে আমরা ফিরে পেলাম শাপলা-শালুক শোভিত দিন, বয়স্ক বটের ছায়াতল এবং কথা বলার নিঃশর্ত কাবিন। আবু সাঈদের কাছে আমাদের সহস্র দিন-রাতের ঋণ। আজ হয়তো তিনি বেহেশতের আনার-আঙুর বনে বিচরণ করছেন, আর আমরা দাওয়ায় বসে নতুন দিনের গল্প বুনি।

এখন বোরাকের মতো আমাদের সবার শরীরে একজোড়া ডানা, আমরা আরশ অবধি উড়তে পারি। আবু সাঈদ যেন এক মস্ত জাদুকরের নাম, যার জাদু জানলে মাশরিক থেকে মাগরিব পর্যন্ত মুক্তির ফুল ফোটে। এই কাব্যিক আবাহন যেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের এক অমর স্মারক।