জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন, ‘আজকে একটি সাক্ষাৎকারে আমরা দেখেছি, ডিসেম্বরে কেউ একজন দেশে ফেরার পরিকল্পনা করেছেন। আমাদের দাবি থাকবে, দেশ তো ইতোমধ্যে ১৬ বছরের ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়েছে। এখন আমরাও চাই তিনি দেশে ফিরবেন, ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্য।’
শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে রায় হয়ে গেছে। এখন এই সরকারের উচিত যথাযথ কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় গণহত্যাকারীকে দেশে ফিরিয়ে এনে সেই রায় কার্যকর করা।’
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা কীভাবে আসবেন, তিনি কাদের নিয়ে আসবেন, তিনি আত্মসমর্পণ করবেন কি না—এগুলো ঠিক করতে হবে বাংলাদেশ সরকারকে। বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে দিল্লির সঙ্গে কথা বলবে। এখানে আর কোনো পক্ষ নেই। ফলে সরকারই ঠিক করবে তাকে কখন, কীভাবে আনা হবে এবং কীভাবে বিচারের রায় কার্যকর করা হবে। সকল প্রস্তুতি নিয়েই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।
নাহিদ ইসলামের মতে, শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়। দিল্লি থেকে তাকে যতটুকু অনুমতি দেওয়া হয়, সে অনুযায়ী তিনি কথা বলেন। ফলে শেখ হাসিনা আসবেন কি আসবেন না, কীভাবে আসবেন, বিচার হবে কি না—এসব মূলত দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বোঝাপড়ার ওপর নির্ভর করবে। তার দাবি, শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগ এখন আর কোনো রাজনৈতিক দল নয়।
জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারীরা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যারা অংশগ্রহণ করেছে, রাজনৈতিকভাবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তারা প্রস্তুত আছে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অর্থনীতিকে রক্ষা করার জন্য আমরা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত আছি।
নাহিদ ইসলাম সতর্ক করে বলেন, তবে শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার যদি কোনো ধরনের পাঁয়তারা বা প্রচেষ্টা হয়, সরকার যদি সেটাকে প্রশ্রয় দেয়, তাহলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন সরকারই হবে। বাংলাদেশের আপামর জনগণ, জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী সব পক্ষ, ত্রিশ হাজার আহত ও ১ হাজার ৪০০ শহীদ পরিবারের সদস্য—আমরা সবাই প্রস্তুত আছি।
আওয়ামী লীগের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন আওয়ামী লীগকে দলগতভাবে বিচারের আওতায় নেওয়ার কথা সরকারও ভাবছে। আমরা মনে করি, এটাই সঠিক রাস্তা।
রিপোর্টারের নাম 

























