রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে দুই শীর্ষ মাদক কারবারির অবৈধ সম্পদ ক্রোক করেছে প্রশাসন। একইসঙ্গে আরও ২০ জনের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান চলছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কঠোর পদক্ষেপে মাদক ব্যবসা করে রাতারাতি কোটিপতি হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে এখন সম্পদ হারানোর তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আদালতের নির্দেশে সম্প্রতি এই দুই শীর্ষ কারবারির সম্পদ ক্রোক করা হয়। জানা গেছে, পর্যায়ক্রমে গোদাগাড়ীর তালিকাভুক্ত ১৮৪ জন হেরোইন মাফিয়ার ব্যাপারে তদন্ত হবে। নতুন করে আইনের আওতায় আসার ভয়ে অনেক মাদক কারবারি বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছে। স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা সরকারের এই সম্পদ ক্রোকের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বছরের শেষ দিক থেকে তালিকাভুক্ত মাদক কারবারিদের অবৈধ সম্পদ চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু হয়েছে। যাদের বৈধ আয়ের উৎস না থাকা সত্ত্বেও বিপুল সম্পদ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মিস পিটিশন মামলা করা হচ্ছে। এর ফলস্বরূপ আদালত তাদের সম্পদ ক্রোকের আদেশ দিচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত দুই মাসে গোদাগাড়ীতে দু’জনের সম্পদ ক্রোকের আদেশ দেওয়া হয়েছে এবং ২০ জনের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান চলমান। গোদাগাড়ীর সহড়াগাছি গ্রামের মাদক কারবারি মো. আব্দুল্লাহ ও তার স্ত্রী সায়েরা বেগমের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক আলী আসলাম হোসেন। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহীর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত গত ৬ এপ্রিল আব্দুল্লাহ ও তার স্ত্রী সায়েরার সম্পদ ক্রোকের আদেশ দেন।
এছাড়া, একই আদালত গত ২৩ মে শীর্ষ মাদক কারবারি তারেক হোসেনের প্রায় ২০০ শতাংশ জমি ক্রোক করার আদেশ দেন। গত বছরের ২২ এপ্রিল তারেকের গরুর খামার থেকে সাড়ে ৬ কেজি হেরোইনসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তারেকের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মেহেদী হাসান। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, ক্রোকাদেশ থাকা সম্পত্তি কোনোভাবেই বিক্রি বা হস্তান্তর করা যাবে না এবং তারা এ সংক্রান্ত আদালতের আদেশ পেয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 





















