ঢাকা ০৯:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

গুজবের জেরে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের তীব্র নিন্দা

বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় এক আসামির মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে সংঘটিত হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের ওপর আক্রমণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটি বলেছে, কোনো গুজব বা অপপ্রচারের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এটি কেবল আইনশৃঙ্খলার জন্য নয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও বিচারব্যবস্থার জন্যও এক বড় ধরনের হুমকি।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৮ জুলাই চুরির মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করে আগৈলঝাড়া থানায় আনা হয়েছিল। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি মাদকাসক্ত অবস্থায় ছিলেন এবং হাজতে থাকাকালীন নিজের মাথায় নিজেই আঘাত করে আহত হন। কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এরই মধ্যে ৯ জুলাই এলাকায় রিয়াজ ফকির মারা গেছেন—এমন একটি ভিত্তিহীন গুজব দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এই গুজবকে কেন্দ্র করে কয়েকশ মানুষ থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা থানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ভাঙচুর এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। সংঘর্ষে একাধিক পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ নিশ্চিত করে যে রিয়াজ ফকির তখনও জীবিত ছিলেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন।

বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন আরও উল্লেখ করেছে যে, অসুস্থ একজন আসামির চিকিৎসা নিশ্চিত করার মাধ্যমে পুলিশ মানবিক দায়িত্ব পালন করেছে। অথচ একটি ভিত্তিহীন গুজবকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়েছে, যা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। বিবৃতিতে এ ধরনের ঘটনাকে ‘মব সংস্কৃতি’র উদ্বেগজনক বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

সংগঠনটির মতে, গুজব, অপপ্রচার কিংবা উসকানির মাধ্যমে জনতাকে সংঘবদ্ধ করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেশে আইনের শাসনের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠতে পারে। এটি কেবল পুলিশের মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং সামগ্রিক বিচারব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থাও কমিয়ে দেয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদাবাজ ও দখলদারমুক্ত জনপ্রতিনিধি বেছে নেওয়ার আহ্বান জাতীয় নাগরিক পার্টির

গুজবের জেরে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের তীব্র নিন্দা

আপডেট সময় : ০৮:০৮:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় এক আসামির মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে সংঘটিত হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের ওপর আক্রমণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটি বলেছে, কোনো গুজব বা অপপ্রচারের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এটি কেবল আইনশৃঙ্খলার জন্য নয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও বিচারব্যবস্থার জন্যও এক বড় ধরনের হুমকি।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৮ জুলাই চুরির মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করে আগৈলঝাড়া থানায় আনা হয়েছিল। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি মাদকাসক্ত অবস্থায় ছিলেন এবং হাজতে থাকাকালীন নিজের মাথায় নিজেই আঘাত করে আহত হন। কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এরই মধ্যে ৯ জুলাই এলাকায় রিয়াজ ফকির মারা গেছেন—এমন একটি ভিত্তিহীন গুজব দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এই গুজবকে কেন্দ্র করে কয়েকশ মানুষ থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা থানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ভাঙচুর এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। সংঘর্ষে একাধিক পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ নিশ্চিত করে যে রিয়াজ ফকির তখনও জীবিত ছিলেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন।

বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন আরও উল্লেখ করেছে যে, অসুস্থ একজন আসামির চিকিৎসা নিশ্চিত করার মাধ্যমে পুলিশ মানবিক দায়িত্ব পালন করেছে। অথচ একটি ভিত্তিহীন গুজবকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়েছে, যা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। বিবৃতিতে এ ধরনের ঘটনাকে ‘মব সংস্কৃতি’র উদ্বেগজনক বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

সংগঠনটির মতে, গুজব, অপপ্রচার কিংবা উসকানির মাধ্যমে জনতাকে সংঘবদ্ধ করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেশে আইনের শাসনের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠতে পারে। এটি কেবল পুলিশের মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং সামগ্রিক বিচারব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থাও কমিয়ে দেয়।