চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এরই মধ্যে পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে ভেসে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের পৃথক এলাকায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে আশিক দক্ষিণ ইলশা গ্রামের প্রবাসী কামাল উদ্দিনের ছেলে এবং মিরাজ বাহারছড়া ইউনিয়নের রত্নপুর এলাকার বাসিন্দা। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুই শিশু নিজ নিজ বাড়ির উঠানে বের হলে পূর্ব দিক থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে ভেসে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও পথেই তাদের মৃত্যু হয়।
দুই শিশুর আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “পাহাড়ি ঢলের পানির স্রোতে ভেসে দুই শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়েছি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বন্যার পানির তীব্র স্রোতের সময় শিশুদের নিরাপদে রাখতে অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।”
এদিকে, টানা ছয় দিনেও বন্যার পানি কমেনি; বরং অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে বিভিন্ন এলাকায় পানি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করলেও সেখানে খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রীর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দুর্গত মানুষের মধ্যে চরম দুর্ভোগ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
শুক্রবার সকালে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বন্যাকবলিত বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন এবং নগদ অর্থ ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। ত্রাণ বিতরণেই সীমাবদ্ধ না থেকে তিনি কোমরসমান পানি মাড়িয়ে কয়েকটি বাড়িতে গিয়ে প্রবীণ, নারী ও শিশুদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন।
রিপোর্টারের নাম 






















