কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিপাতে রাজধানী ঢাকার মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। প্রায় ৬৫ একর বিস্তৃত এই কবরস্থানটির পূর্ব পাশের প্রায় সম্পূর্ণ অংশ এবং অন্যান্য বিভিন্ন লাইনের অধিকাংশ এখন পানির নিচে তলিয়ে আছে। টানা বর্ষণে কবরস্থানটির এই অংশগুলো যেন একটি ডোবায় পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রিয়জনের শেষ ঠিকানা খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, কবরের সারিগুলো পানির নিচে ডুবে আছে, লোহার বেড়া ও সীমানা প্রাচীরও পানির নিচে অদৃশ্য। এমনকি অনেক নামফলকও এখন আর দৃশ্যমান নয়। প্রিয়জনের শেষ ঠিকানায় শ্রদ্ধা জানাতে আসা স্বজনরা কবরের কাছে যাওয়ার ন্যূনতম পথটুকুও খুঁজে পাচ্ছেন না, যা তাদের জন্য গভীর বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বজনরা অভিযোগ জানান, কবরস্থান রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তারা নিয়মিত অর্থ পরিশোধ করেন। কিন্তু প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে তাদের এই একই ভোগান্তির শিকার হতে হয়। প্রিয়জনের শেষ ঠিকানায় এমন করুণ অবস্থা তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক।
কবরস্থানের রক্ষণাবেক্ষণকারী স্টাফদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এটি তাদের জন্য দীর্ঘদিনের একটি পুরনো সমস্যা। তারা জানান, এই জায়গাটি প্রায় ১৫ থেকে ২০ বছর আগে মাটি ভরাট করে কবরস্থানের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে মাটির উচ্চতা কমে যাওয়ায় এখন ভারী বর্ষণে জলাবদ্ধতা একটি স্থায়ী সমস্যায় রূপ নিয়েছে। কবরস্থানের ক্যাটাগরি বা লাইনের ভেদে কিছু জায়গা এখনো তুলনামূলক ভালো অবস্থায় থাকলেও, পূর্ব পাশসহ দৃশ্যমান অধিকাংশ লাইনের অবস্থাই এখন বেহাল।
শুক্রবার ছুটির দিনেও কবরের এমন ডুবন্ত দশা দেখে অনেক স্বজনকে দূর থেকে হাত তুলে দোয়া করেই ফিরে যেতে দেখা গেছে। জলাবদ্ধতা ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে কবরস্থান সংশ্লিষ্ট রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, এখানে ড্রেনেজ ব্যবস্থা রয়েছে এবং সম্প্রতি ড্রেনগুলো সংযুক্ত করার জন্য নতুন কাজও করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, অন্য বছরের তুলনায় এই মৌসুমে পানি বেশি জমতে দেখা গেছে, যা আগে কখনো সেভাবে লক্ষ্য করা যায়নি। বর্তমানে যে ড্রেনেজ লাইনটি রয়েছে, তা সম্পূর্ণ পরিষ্কার নয় এবং জমে থাকা সব পানি অপসারণে এটি সক্ষম হচ্ছে না। রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, কবরস্থানের কিছু জায়গা তুলনামূলক নিচু এবং চুক্তি অনুযায়ী মাটি ভরাট না করার কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে; নিয়মিত মাটি ভরাট করা হলে জলাবদ্ধতার সমাধান সম্ভব হতো।
রিপোর্টারের নাম 
























