ঢাকা ১০:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

আলফাডাঙ্গায় ইয়াবাসহ আটক দুই কারবারিকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ পৌর বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় মাদক বেচাকেনার সময় স্থানীয় যুবকদের হাতে ইয়াবাসহ আটক দুই মাদক কারবারিকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর হাসান হাসিবের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় যুবসমাজ অভিযুক্ত নেতার জবাবদিহি দাবি করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নওয়াপাড়া এলাকায় লিবাটি কেমিক্যাল ফ্যাক্টরির সামনে এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই এলাকার সরোয়ার কাজীর ছেলে সোহাগ কাজী দুই পিস ইয়াবা বিক্রি করেন একই গ্রামের সাইফারের ছেলে পারভেজের কাছে। এ সময় স্থানীয় ২০ থেকে ২২ জন যুবক তাদের দুজনকে ইয়াবাসহ হাতেনাতে আটক করেন।

পরে খবর পেয়ে আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর হাসান হাসিব ঘটনাস্থলে যান। স্থানীয় যুবকদের অভিযোগ, তিনি তাদের থানায় দেওয়ার কথা বলে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান। তবে শুক্রবার সকালে তারা থানায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, আটক দুইজনকে থানায় দেওয়া হয়নি; বরং হাসিবুর হাসান তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় যুবকরা শুক্রবার গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন। পরে জুমার নামাজের পর দারোগার বাড়ি জামে মসজিদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়। যুবকদের দাবি, মাদক কারবারিদের ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় হাসিবুর হাসানের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

নওয়াপাড়া গ্রামের যুবক আমীর হামজা ও শাকিল বলেন, “আমরা যুবসমাজ মাদক কারবারিদের ইয়াবাসহ হাতেনাতে ধরেছিলাম। পরে হাসিব ভাই থানায় দেওয়ার কথা বলে তাদের মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান। শুক্রবার সকালে থানায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, তাদের থানায় দেওয়া হয়নি।” তারা আরও বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে যুবসমাজ যখন কাজ করছে, তখন এভাবে আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়া হলে এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রম ব্যাহত হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দা একরামুল হক ও মফিজুর রহমান বলেন, “যুবকেরা মাদক কারবারিদের আটক করে ভালো কাজ করেছে। তবে তাদের ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গ্রামবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।” এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর হাসিব বলেন, “আমি ফ্যাক্টরির ভেতর থেকে শব্দ শুনে বাইরে এসে দেখি কয়েকজন ছেলে দুইজনকে মারধর করছে। আমি মারধর বন্ধ করি এবং থানার ওসিকে ফোন করি।” তিনি আরও বলেন, “ওসি সাহেব আমাকে বলেন, যেহেতু তাদের মারধর করা হয়েছে, আগে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদাবাজ ও দখলদারমুক্ত জনপ্রতিনিধি বেছে নেওয়ার আহ্বান জাতীয় নাগরিক পার্টির

আলফাডাঙ্গায় ইয়াবাসহ আটক দুই কারবারিকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ পৌর বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

আপডেট সময় : ০৯:১৫:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় মাদক বেচাকেনার সময় স্থানীয় যুবকদের হাতে ইয়াবাসহ আটক দুই মাদক কারবারিকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর হাসান হাসিবের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় যুবসমাজ অভিযুক্ত নেতার জবাবদিহি দাবি করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নওয়াপাড়া এলাকায় লিবাটি কেমিক্যাল ফ্যাক্টরির সামনে এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই এলাকার সরোয়ার কাজীর ছেলে সোহাগ কাজী দুই পিস ইয়াবা বিক্রি করেন একই গ্রামের সাইফারের ছেলে পারভেজের কাছে। এ সময় স্থানীয় ২০ থেকে ২২ জন যুবক তাদের দুজনকে ইয়াবাসহ হাতেনাতে আটক করেন।

পরে খবর পেয়ে আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর হাসান হাসিব ঘটনাস্থলে যান। স্থানীয় যুবকদের অভিযোগ, তিনি তাদের থানায় দেওয়ার কথা বলে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান। তবে শুক্রবার সকালে তারা থানায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, আটক দুইজনকে থানায় দেওয়া হয়নি; বরং হাসিবুর হাসান তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় যুবকরা শুক্রবার গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন। পরে জুমার নামাজের পর দারোগার বাড়ি জামে মসজিদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়। যুবকদের দাবি, মাদক কারবারিদের ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় হাসিবুর হাসানের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

নওয়াপাড়া গ্রামের যুবক আমীর হামজা ও শাকিল বলেন, “আমরা যুবসমাজ মাদক কারবারিদের ইয়াবাসহ হাতেনাতে ধরেছিলাম। পরে হাসিব ভাই থানায় দেওয়ার কথা বলে তাদের মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান। শুক্রবার সকালে থানায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, তাদের থানায় দেওয়া হয়নি।” তারা আরও বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে যুবসমাজ যখন কাজ করছে, তখন এভাবে আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়া হলে এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রম ব্যাহত হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দা একরামুল হক ও মফিজুর রহমান বলেন, “যুবকেরা মাদক কারবারিদের আটক করে ভালো কাজ করেছে। তবে তাদের ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গ্রামবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।” এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর হাসিব বলেন, “আমি ফ্যাক্টরির ভেতর থেকে শব্দ শুনে বাইরে এসে দেখি কয়েকজন ছেলে দুইজনকে মারধর করছে। আমি মারধর বন্ধ করি এবং থানার ওসিকে ফোন করি।” তিনি আরও বলেন, “ওসি সাহেব আমাকে বলেন, যেহেতু তাদের মারধর করা হয়েছে, আগে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।”