ঢাকা ০৮:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

ভারতীয় আগ্রাসন বন্ধ ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ইসলামী আন্দোলনের গণমিছিল

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, দেশে ফ্যাসিবাদ তাড়ানোর জন্য শুধু জুলাই অভ্যুত্থান হয়নি, বরং দেশ বিক্রির ষড়যন্ত্রকারীদের উৎখাতে এই অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। জনগণ শান্তিতে বসবাস করার জন্য দেশরক্ষায় জীবন দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে এবং পঙ্গুত্ব বরণ করেছে।

তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ৭০ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছে। নির্বাচনের আগে বিএনপিও ক্ষমতায় গেলে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে। শুক্রবার বাদ জুমা ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের উদ্যোগে ‘ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে’ আয়োজিত গণমিছিল পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মুফতি ফয়জুল করীম আরও বলেন, যারা দেশকে দখল ও ভাগ করে গ্রাস করতে চায়, তাদের বক্তব্যকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘স্লিপ অব টাং’ বলে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছেন। নতুনভাবে দেশে জঙ্গি নাটক সৃষ্টি করে ইসলামপন্থি, আলেম-ওলামা ও মাদরাসাকে ধ্বংস করতে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, জঙ্গি কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের সংস্কৃতি নয়, এটি ভারতের সংস্কৃতি। এই ‘জঙ্গি জঙ্গি খেলা’ বন্ধ করতে হবে।

তিনি পশ্চিমবঙ্গের শুভেন্দু অধিকারীর সমালোচনা করে বলেন, তার আগমনের পর পশ্চিম বঙ্গকে নরকে পরিণত করা হয়েছে। মুসলমানদের বাড়ি-ঘর, দোকানপাট, মসজিদ-মাদরাসাকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। মুসলিম নারীদের ধর্ষণ ও হত্যা করা হচ্ছে এবং জোরপূর্বক তাদের ‘শ্রীরাম’ বলতে ও সিঁদুর পরতে বাধ্য করা হচ্ছে। ভারতের যেকোনো ষড়যন্ত্রের মোকাবেলায় দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা বাংলাদেশকে ভালোবাসি, তাই জীবন ও রক্ত দিয়ে হলেও দেশকে রক্ষা করবো।”

মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম ধর্মকে হাতিয়ার করে কোনো ধরনের সহিংসতাকে অকাম্য বলে মন্তব্য করেন। ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সুনামগঞ্জে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় প্রস্তুত ১,৩১১ আশ্রয়কেন্দ্র

ভারতীয় আগ্রাসন বন্ধ ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ইসলামী আন্দোলনের গণমিছিল

আপডেট সময় : ০৭:০০:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, দেশে ফ্যাসিবাদ তাড়ানোর জন্য শুধু জুলাই অভ্যুত্থান হয়নি, বরং দেশ বিক্রির ষড়যন্ত্রকারীদের উৎখাতে এই অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। জনগণ শান্তিতে বসবাস করার জন্য দেশরক্ষায় জীবন দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে এবং পঙ্গুত্ব বরণ করেছে।

তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ৭০ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছে। নির্বাচনের আগে বিএনপিও ক্ষমতায় গেলে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে। শুক্রবার বাদ জুমা ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের উদ্যোগে ‘ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে’ আয়োজিত গণমিছিল পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মুফতি ফয়জুল করীম আরও বলেন, যারা দেশকে দখল ও ভাগ করে গ্রাস করতে চায়, তাদের বক্তব্যকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘স্লিপ অব টাং’ বলে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছেন। নতুনভাবে দেশে জঙ্গি নাটক সৃষ্টি করে ইসলামপন্থি, আলেম-ওলামা ও মাদরাসাকে ধ্বংস করতে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, জঙ্গি কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের সংস্কৃতি নয়, এটি ভারতের সংস্কৃতি। এই ‘জঙ্গি জঙ্গি খেলা’ বন্ধ করতে হবে।

তিনি পশ্চিমবঙ্গের শুভেন্দু অধিকারীর সমালোচনা করে বলেন, তার আগমনের পর পশ্চিম বঙ্গকে নরকে পরিণত করা হয়েছে। মুসলমানদের বাড়ি-ঘর, দোকানপাট, মসজিদ-মাদরাসাকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। মুসলিম নারীদের ধর্ষণ ও হত্যা করা হচ্ছে এবং জোরপূর্বক তাদের ‘শ্রীরাম’ বলতে ও সিঁদুর পরতে বাধ্য করা হচ্ছে। ভারতের যেকোনো ষড়যন্ত্রের মোকাবেলায় দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা বাংলাদেশকে ভালোবাসি, তাই জীবন ও রক্ত দিয়ে হলেও দেশকে রক্ষা করবো।”

মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম ধর্মকে হাতিয়ার করে কোনো ধরনের সহিংসতাকে অকাম্য বলে মন্তব্য করেন। ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।