পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আবারও উত্তাপ ছড়িয়েছে। বারুইপুরে এক মুসলিম কন্যাশিশুকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলন দানা বেঁধেছে, তা নিয়ে এবার বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা ও রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তার বক্তব্যে মুসলিমদের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সুরে এই সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে সরব হয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও।
দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, শুধুমাত্র মুসলিম পরিচয়ের কারণেই এই আন্দোলন হচ্ছে। তিনি বিরোধী দলগুলোর নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, রাজ্যে আন্দোলন বা প্রতিবাদের ভাষা নির্ভর করে আক্রান্তের পরিচয়ের ওপর। তার মতে, একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর রাজনৈতিক নেতারা কেবল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর আঘাত এলেই পথে নামেন। তিনি বলেন, মুসলিম বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কোনো ঘটনা ঘটলেই যেভাবে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ হয়, হিন্দু নারী বা বিজেপি কর্মীদের হত্যা ও বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় সেই একই প্রতিবাদীরা আশ্চর্যজনকভাবে নীরব থাকেন। এর মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট হয়েই এই আন্দোলনগুলো পরিচালিত হয়।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দিলীপ ঘোষ বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে দম্ভোক্তিমূলক সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি এই ধরনের ‘ড্রামা’ বন্ধ করার আহ্বান জানান। তার দাবি, রাজ্যের পুলিশের ভূমিকা এখন পাল্টে গেছে এবং কাকে কীভাবে ‘সোজা’ করতে হয়, তা তাদের খুব ভালো করেই জানা আছে।
রাজ্যের স্তব্ধ হয়ে থাকা পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকেও আক্রমণ করেছেন এই বিজেপি নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, বহু তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধানরা অফিসে যাওয়াই বন্ধ করে দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে তিনি কড়া আল্টিমেটাম দিয়েছেন— হয় কাজে ফিরে মানুষের সেবা করতে হবে, নতুবা ইস্তফা দিতে হবে। অন্যথায়, সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়ার পাশাপাশি, কোমরে দড়ি পরিয়ে বাড়ি থেকে টেনে আনার মতো কঠোর আইনি ব্যবস্থারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও তীব্র সমালোচনা করেছেন দিলীপ ঘোষ। বিশেষ করে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কর্তৃক নির্যাতিতার মায়ের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার ঘটনাকে তিনি সুপ্রিম কোর্ট ও জাতীয় মহিলা কমিশনের নিয়মের সরাসরি লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন।
রিপোর্টারের নাম 




















