চলমান উচ্চমূল্যের বাজারে সাধারণ মানুষ যখন হাঁসফাঁস করছেন, তখন আজও সবজির দাম রয়েছে চড়া। হাতে গোনা কয়েকটি বাদে প্রায় সব সবজির দাম প্রতিকেজি ৮০ টাকার ওপরে। যেসব সবজির দাম আগে কিছুটা কমেছিল, তার মধ্যে বেশ কয়েকটির দাম নতুন করে বেড়েছে। তবে সুখবর হলো, হুট করে বেড়ে যাওয়া কাঁচা মরিচের দাম আজ অনেকটাই কমেছে। অন্যদিকে, সপ্তাহখানেক কিছুটা কম থাকার পর মুরগির মাংসের দাম আবার বেড়ে গেছে।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বর কাঁচাবাজার ঘুরে আজকের বাজারের এই চিত্র দেখা যায়।
আকাশছোঁয়া সবজির দামের কারণে বাজারে কোনোভাবেই স্বস্তি ফিরছে না। স্বল্প আয়ের মানুষরা প্রতিনিয়তই নিজেদের আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে গিয়ে চাপ অনুভব করছেন।
বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আজমল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাজারের এই পরিস্থিতিতে আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে কীভাবে টিকে থাকব, সেটা একটা বড় প্রশ্ন। বাজারে সবকিছুর দাম বেশি, কম বলে কিছু নেই। আগে যেভাবে কিনতাম, এখন সেভাবে পারি না। কারণ আমার ইনকাম তো একই আছে, সেটা কি বাড়িয়েছে আমার কোম্পানি বা সরকার? কিন্তু জিনিসপত্রের দাম তো ঠিকই বাড়ছে। এভাবে হলে আমরা কীভাবে চলব?’
আরেক ক্রেতা শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘কোনও কিছু যদি আগে দুই কেজি কিনতাম, সেটা এখন কিনি এক কেজি। কারণ দুই কেজি কেনার পয়সা আমার নাই। এটাই সত্য। উচ্চ বাজারমূল্য প্রতিদিন আমার মতো সাধারণ মানুষের ওপর চাপ তৈরি করছে।’
আজকের বাজারে প্রতিকেজি ভারতীয় টমেটো ১৪০ টাকা, দেশি গাজর ৮০ টাকা, লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, সাদা গোল বেগুন ১২০-১৪০ টাকা, কালো গোল বেগুন ১৮০ টাকা, শিম ২৬০ টাকা, দেশি শসা ১০০ টাকা, উচ্ছে ১০০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, কাঁকরোল ১০০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৮০-১২০ টাকা, পটোল (হাইব্রিড) ৮০ টাকা, দেশি পটোল ১৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, ধুন্দল ১০০ টাকা, ঝিঙা ১০০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ২৪০ টাকা এবং ধনেপাতা (মানভেদে) ৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। অপেক্ষাকৃত কম দামি সবজির মধ্যে পেঁপে ৪০ টাকা ও মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লাউ মানভেদে ৮০-১২০ টাকা ও চালকুমড়া ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস। এক হালি কাঁচা কলা ৪০-৫০ টাকা এবং লেবু ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ভারতীয় টমেটো, চায়না গাজর, সাদা গোল বেগুন, কালো গোল বেগুন, শিম, দেশি শসা, ঢ্যাঁড়স, দেশি পটোল ও ধুন্দলের দাম কেজিতে ২০ টাকা করে বেড়েছে। অন্যদিকে, মুলা ও কচুরমুখীর দাম কেজিতে ২০ টাকা করে কমেছে।
হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া কাঁচা মরিচের দাম আজ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। সপ্তাহখানেক আগে কাঁচা মরিচের দাম ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি থাকলেও, আজ তা নেমে এসেছে ২৪০ টাকায়। সবজির দাম বাড়ার কারণ হিসেবে বিক্রেতারা বৃষ্টি ও ঋতুর পরিবর্তনকে দায়ী করেছেন।
আজকের বাজারে ক্রস পেঁয়াজ ও চায়না আদার দাম বেড়েছে। তবে কমেছে বগুড়ার আলু, দেশি ও চায়না রসুনের দাম।
আকার ও মানভেদে ক্রস জাতের পেঁয়াজ ৮০-৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেখানে দাম বেড়েছে ৫-১০ টাকা। চায়না আদার দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৮০-২০০ টাকায়। অন্যদিকে, বগুড়ার আলুর দাম কেজিতে ৫ টাকা কমে ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি রসুনের দাম ২০ টাকা এবং চায়না রসুনের দাম ১০-২০ টাকা কমেছে।
সপ্তাহ দুয়েক আগে কিছুটা কম থাকলেও আজকের বাজারে সব ধরনের মুরগির মাংসের দাম আবার বেড়েছে। বয়লার, কক, লেয়ার ও দেশি মুরগির দাম কেজিতে ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
আজকের বাজারে বয়লার মুরগি ১৭৫-১৮৫ টাকা, কক মুরগি ২৮০-২৯০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩০০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২০০ টাকা কেজি দরে। ডিমের দামে কোনও পরিবর্তন আসেনি।
মুরগির দাম বাড়ার প্রসঙ্গে এক বিক্রেতা বলেন, ‘এখন আবহাওয়া একটু ঠান্ডা, তাই মুরগি মরে না। এই সুযোগে খামারিরা দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে। ঠান্ডা আবহাওয়া যেহেতু এসেছে, তাই মুরগির দাম এরকমই থাকবে বলে মনে হচ্ছে।’
আজকের বাজারে মুদিপণ্যের দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি। পোলাও চাল, ডাল, তেল, চিনি, মসলাসহ সব ধরনের মুদিপণ্য পূর্বের দামেই বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারেও দাম রয়েছে প্রায় স্থিতিশীল। আকার ও ওজন অনুযায়ী রুই মাছ ৪০০-৭০০ টাকা, কাতল মাছ ৩০০-৬০০ টাকা, চিংড়ি মাছ ৮০০-১৪০০ টাকা এবং শিং মাছ ৪০০-১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 
























