ঢাকা ০১:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

নিরাপত্তার নতুন সমীকরণ মধ্যপ্রাচ্যে: কেন বিকল্প মিত্র খুঁজছে আরব দেশগুলো?

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তাদের নিরাপত্তা কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। দীর্ঘকাল ধরে নিরাপত্তার জন্য এককভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল থাকলেও বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তারা এখন বহুমুখী মিত্র তৈরির দিকে ঝুঁকছে। বিশ্লেষকদের মতে, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় উপসাগরীয় দেশগুলো এখন পাকিস্তান, চীন ও রাশিয়ার মতো শক্তির সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) ভুক্ত দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও সুসংহত করতে ইউরোপের দেশগুলো থেকে আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করছে। এর আগে সৌদি আরব পাকিস্তানের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের অন্য দেশগুলোতেও সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রকে পুরোপুরি বর্জন করা নয়, বরং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য রক্ষা এবং ইরান ও ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলা করার একটি কৌশল মাত্র।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর এই উদ্বেগের পেছনে রয়েছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের ভয়াবহতা। ওই সময় ইরানের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনা ও কৌশলগত পয়েন্টে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছিল। এছাড়া ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদী নীতিকেও অনেক আরব দেশ নিজেদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। ফলে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা এখন আর কোনো একটি নির্দিষ্ট পরাশক্তির ওপর নির্ভর না করে একাধিক দেশের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার পথে হাঁটছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খামেনির শেষ বিদায়ে তেহরানে ২ কোটি মানুষের সমাগমের সম্ভাবনা

নিরাপত্তার নতুন সমীকরণ মধ্যপ্রাচ্যে: কেন বিকল্প মিত্র খুঁজছে আরব দেশগুলো?

আপডেট সময় : ১১:৪৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তাদের নিরাপত্তা কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। দীর্ঘকাল ধরে নিরাপত্তার জন্য এককভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল থাকলেও বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তারা এখন বহুমুখী মিত্র তৈরির দিকে ঝুঁকছে। বিশ্লেষকদের মতে, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় উপসাগরীয় দেশগুলো এখন পাকিস্তান, চীন ও রাশিয়ার মতো শক্তির সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) ভুক্ত দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও সুসংহত করতে ইউরোপের দেশগুলো থেকে আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করছে। এর আগে সৌদি আরব পাকিস্তানের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের অন্য দেশগুলোতেও সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রকে পুরোপুরি বর্জন করা নয়, বরং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য রক্ষা এবং ইরান ও ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলা করার একটি কৌশল মাত্র।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর এই উদ্বেগের পেছনে রয়েছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের ভয়াবহতা। ওই সময় ইরানের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনা ও কৌশলগত পয়েন্টে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছিল। এছাড়া ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদী নীতিকেও অনেক আরব দেশ নিজেদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। ফলে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা এখন আর কোনো একটি নির্দিষ্ট পরাশক্তির ওপর নির্ভর না করে একাধিক দেশের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার পথে হাঁটছে।