ঢাকা ০৩:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

সিলেটে যুবদল কর্মী হত্যা: বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার কাছে স্বজনের আকুতি

সিলেটের ওসমানীনগরে সরকারি উন্নয়নকাজে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় এক যুবদল কর্মীকে পরিকল্পিতভাবে নিজগৃহে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার দু’সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় নিহতের পরিবারে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) হুমায়ুন কবিরের কাছে হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে ছোট ভাই তার ভাই হত্যার বিচার চেয়েছেন।

গত ১৯ জুন উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর রাইকদাড়া গ্রামের মৃত সুরুজ আলীর পুত্র ও যুবদলকর্মী তুরন মিয়ার লাশ তার নিজ ঘর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের দাবি, নিজ গ্রামের রাস্তায় সরকারি উন্নয়নকাজে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে নারাজ। ফলে ঘটনাটি ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

পরিবারের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি মহল যুবদল কর্মীকে হত্যার পর ঘটনাটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে প্রচার করে আসল ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। এতে নিহতের পরিবার ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে গভীর শঙ্কায় রয়েছে।

গত ১ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সরকারি সফরে ওসমানীনগরে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে অংশ নেন। কর্মসূচির একপর্যায়ে উপজেলা অডিটোরিয়ামে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময়কালে নিহত তুরন মিয়ার ছোটভাই এলাইছ মিয়া কাঁদতে কাঁদতে উপদেষ্টাকে জড়িয়ে ধরে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। পরে উপদেষ্টা নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং সিলেট পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেককে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

উল্লেখ্য, গত ৬ জুন নিহত তুরন মিয়া নিজ বাড়িতে প্রতিবেশীদের হামলার শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় তিনি ভবিষ্যতে প্রাণনাশের আশঙ্কা উল্লেখ করে ওসমানীনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। কিন্তু প্রভাবশালীদের চাপে সেই মামলা রেকর্ড করা হয়নি বলে পরিবারের দাবি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্র জুলাই যোদ্ধাদের কাছে ঋণী: হুইপ নিজানের মন্তব্য

সিলেটে যুবদল কর্মী হত্যা: বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার কাছে স্বজনের আকুতি

আপডেট সময় : ০২:১৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

সিলেটের ওসমানীনগরে সরকারি উন্নয়নকাজে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় এক যুবদল কর্মীকে পরিকল্পিতভাবে নিজগৃহে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার দু’সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় নিহতের পরিবারে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) হুমায়ুন কবিরের কাছে হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে ছোট ভাই তার ভাই হত্যার বিচার চেয়েছেন।

গত ১৯ জুন উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর রাইকদাড়া গ্রামের মৃত সুরুজ আলীর পুত্র ও যুবদলকর্মী তুরন মিয়ার লাশ তার নিজ ঘর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের দাবি, নিজ গ্রামের রাস্তায় সরকারি উন্নয়নকাজে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে নারাজ। ফলে ঘটনাটি ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

পরিবারের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি মহল যুবদল কর্মীকে হত্যার পর ঘটনাটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে প্রচার করে আসল ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। এতে নিহতের পরিবার ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে গভীর শঙ্কায় রয়েছে।

গত ১ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সরকারি সফরে ওসমানীনগরে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে অংশ নেন। কর্মসূচির একপর্যায়ে উপজেলা অডিটোরিয়ামে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময়কালে নিহত তুরন মিয়ার ছোটভাই এলাইছ মিয়া কাঁদতে কাঁদতে উপদেষ্টাকে জড়িয়ে ধরে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। পরে উপদেষ্টা নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং সিলেট পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেককে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

উল্লেখ্য, গত ৬ জুন নিহত তুরন মিয়া নিজ বাড়িতে প্রতিবেশীদের হামলার শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় তিনি ভবিষ্যতে প্রাণনাশের আশঙ্কা উল্লেখ করে ওসমানীনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। কিন্তু প্রভাবশালীদের চাপে সেই মামলা রেকর্ড করা হয়নি বলে পরিবারের দাবি।