ঢাকা ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

জন্ম তারিখ সংশোধনে ইসি কার্যালয়ে ভোগান্তির পাহাড়: ঢাকাকেন্দ্রিক সিদ্ধান্তে দেশজুড়ে ক্ষোভ

জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) জন্ম তারিখ সংশোধনের ‘ঘ’ ক্যাটাগরির আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষমতা ঢাকাকেন্দ্রিক করার পর দেশজুড়ে মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। মাঠ পর্যায়ে দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধের অজুহাতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এই সিদ্ধান্ত নিলেও, এর ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ছুটে এসেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। উল্টো দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে অর্থ ও সময় দুটোরই অপচয় হচ্ছে সেবাপ্রত্যাশীদের।

তথ্যগত ত্রুটি ও নথিপত্রের অসংগতিতে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন জটিলতা, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলছে। এমন পরিস্থিতিতে ‘ঘ’ ক্যাটাগরির আবেদন নিয়ন্ত্রণের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্টভিত্তিক সফটওয়্যার চালুর উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে ইসি। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আবেদনকারীদের শুনানি গ্রহণ করা হবে এবং এ উপলক্ষে একটি ওয়ার্কশপ করারও পরিকল্পনা রয়েছে ইসির।

নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিদিন প্রায় এক হাজার ‘ঘ’ ক্যাটাগরির আবেদন জমা পড়ছে এবং বর্তমানে এ ধরনের আবেদনের সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার। ইসির রেকর্ড অনুযায়ী, গত সপ্তাহে এক দিনেই ৩০০ জন ভিজিটরকে সামলাতে হয়েছে আবেদন নিষ্পত্তির দায়িত্বে থাকা মাত্র ১২-১৩ জন কর্মকর্তাকে। এরপরই অ্যাপয়েন্টমেন্টভিত্তিক নিয়ম চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, জন্ম তারিখ সংশোধনসংক্রান্ত যেকোনো ক্যাটাগরির আবেদন নিষ্পত্তির জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ক্ষমতা দেওয়া হবে না। তিনি যুক্তি দেন, একজন মানুষের দুটি জন্ম তারিখ থাকা সমীচীন নয়। নিজের অভিজ্ঞতার উদাহরণ টেনে সিনিয়র সচিব বলেন, একজনের পিতা মারা যাওয়ার ২০ মাস পর বয়স সংশোধনের আবেদন আমরা পেয়েছি। আবার কারো কারো এমনও আবেদন পেয়েছি, যা নিষ্পত্তি করলে ওই ব্যক্তির বয়স দাঁড়াবে ১০ বছর, যা বাস্তবে অসম্ভব।

পূর্বে, জন্ম তারিখের ক্ষেত্রে ১০ বছর বা তার বেশি বয়স সংশোধনের আবেদন এনআইডির ডিজি, ক্ষেত্রবিশেষে ইসি সচিব বা কমিশন নিষ্পত্তি করতেন। অন্যদিকে, পাঁচ-সাত বছর বা ৯ বছর পর্যন্ত বয়স সংশোধনের আবেদন মাঠ পর্যায়ের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা (আরইও) ও এনআইডির পরিচালকরা নিষ্পত্তি করতে পারতেন। কিন্তু বর্তমানে সব ক্ষমতা ইসির প্রধান কার্যালয়ে কেন্দ্রীভূত হওয়ায় মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্র জুলাই যোদ্ধাদের কাছে ঋণী: হুইপ নিজানের মন্তব্য

জন্ম তারিখ সংশোধনে ইসি কার্যালয়ে ভোগান্তির পাহাড়: ঢাকাকেন্দ্রিক সিদ্ধান্তে দেশজুড়ে ক্ষোভ

আপডেট সময় : ০২:১৪:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) জন্ম তারিখ সংশোধনের ‘ঘ’ ক্যাটাগরির আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষমতা ঢাকাকেন্দ্রিক করার পর দেশজুড়ে মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। মাঠ পর্যায়ে দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধের অজুহাতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এই সিদ্ধান্ত নিলেও, এর ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ছুটে এসেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। উল্টো দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে অর্থ ও সময় দুটোরই অপচয় হচ্ছে সেবাপ্রত্যাশীদের।

তথ্যগত ত্রুটি ও নথিপত্রের অসংগতিতে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন জটিলতা, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলছে। এমন পরিস্থিতিতে ‘ঘ’ ক্যাটাগরির আবেদন নিয়ন্ত্রণের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্টভিত্তিক সফটওয়্যার চালুর উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে ইসি। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আবেদনকারীদের শুনানি গ্রহণ করা হবে এবং এ উপলক্ষে একটি ওয়ার্কশপ করারও পরিকল্পনা রয়েছে ইসির।

নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিদিন প্রায় এক হাজার ‘ঘ’ ক্যাটাগরির আবেদন জমা পড়ছে এবং বর্তমানে এ ধরনের আবেদনের সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার। ইসির রেকর্ড অনুযায়ী, গত সপ্তাহে এক দিনেই ৩০০ জন ভিজিটরকে সামলাতে হয়েছে আবেদন নিষ্পত্তির দায়িত্বে থাকা মাত্র ১২-১৩ জন কর্মকর্তাকে। এরপরই অ্যাপয়েন্টমেন্টভিত্তিক নিয়ম চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, জন্ম তারিখ সংশোধনসংক্রান্ত যেকোনো ক্যাটাগরির আবেদন নিষ্পত্তির জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ক্ষমতা দেওয়া হবে না। তিনি যুক্তি দেন, একজন মানুষের দুটি জন্ম তারিখ থাকা সমীচীন নয়। নিজের অভিজ্ঞতার উদাহরণ টেনে সিনিয়র সচিব বলেন, একজনের পিতা মারা যাওয়ার ২০ মাস পর বয়স সংশোধনের আবেদন আমরা পেয়েছি। আবার কারো কারো এমনও আবেদন পেয়েছি, যা নিষ্পত্তি করলে ওই ব্যক্তির বয়স দাঁড়াবে ১০ বছর, যা বাস্তবে অসম্ভব।

পূর্বে, জন্ম তারিখের ক্ষেত্রে ১০ বছর বা তার বেশি বয়স সংশোধনের আবেদন এনআইডির ডিজি, ক্ষেত্রবিশেষে ইসি সচিব বা কমিশন নিষ্পত্তি করতেন। অন্যদিকে, পাঁচ-সাত বছর বা ৯ বছর পর্যন্ত বয়স সংশোধনের আবেদন মাঠ পর্যায়ের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা (আরইও) ও এনআইডির পরিচালকরা নিষ্পত্তি করতে পারতেন। কিন্তু বর্তমানে সব ক্ষমতা ইসির প্রধান কার্যালয়ে কেন্দ্রীভূত হওয়ায় মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।