ঢাকা ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

অদম্য কলি রানী: পা দিয়ে লিখেই এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী

জন্ম থেকেই দুই হাতের আঙুল না থাকলেও, শারীরিক এই সীমাবদ্ধতা রংপুরের কাউনিয়া কলেজের শিক্ষার্থী কলি রানীর স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করে তিনি ডান পা দিয়ে লিখে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন, যা অন্যদের জন্য এক অনুপ্রেরণার উৎস।

জানা গেছে, রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার গদাই গ্রামের রুপালী রানীর মেয়ে কলি রানী। জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও ছোটবেলা থেকেই তিনি লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবা মনোরঞ্জন রায় মারা গেলেও, তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট কলি পরিবারের সহযোগিতায় সকল প্রতিকূলতাকে জয় করে এগিয়ে চলেছেন।

শুধু পড়াশোনাই নয়, গানেও রয়েছে তার বিশেষ দক্ষতা। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গেয়ে তিনি একাধিক সম্মাননা অর্জন করেছেন। এছাড়া পা দিয়ে তিনি কম্পিউটার ও মোবাইল ফোনও সাবলীলভাবে চালাতে পারেন। ভবিষ্যতে বিসিএস ক্যাডার হয়ে মানুষের সেবা করাই তার স্বপ্ন।

এর আগে পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় পা দিয়ে লিখেই ‘এ’ গ্রেড অর্জন করেন কলি। পরে এসএসসিতেও তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। বর্তমানে তিনি এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন এবং তার অদম্য চেষ্টা সবার নজর কেড়েছে।

কলি রানীর ভাই মন্টু রাম রায় জানান, জন্ম থেকেই তার বোনের হাতের আঙুল নেই। তাই হাতে কলম ধরতে না পারলেও ইচ্ছাশক্তির জোরে সে ডান পা দিয়ে লেখা শিখেছে। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে এখন সে দ্রুত লিখতে পারে। তিনি বোনের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে সমাজের বিত্তবান ও দয়ালু মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

কাউনিয়া মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব রফিকুল ইসলাম বলেন, অন্য পরীক্ষার্থীদের মতোই কলি রানী পা দিয়ে উত্তরপত্র লিখছে। শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় বিধি অনুযায়ী তাকে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছে। তিনি কলির উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ জীবনের সফলতা কামনা করেন। কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পাপিয়া সুলতানা বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কলি রানীর অগ্রযাত্রাকে থামাতে পারেনি। উপজেলা প্রশাসন সব সময় তার পাশে থাকবে। আমরা চাই সে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে নিজের স্বপ্ন পূরণ করুক এবং সমাজের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠুক।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্র জুলাই যোদ্ধাদের কাছে ঋণী: হুইপ নিজানের মন্তব্য

অদম্য কলি রানী: পা দিয়ে লিখেই এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী

আপডেট সময় : ০২:১৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

জন্ম থেকেই দুই হাতের আঙুল না থাকলেও, শারীরিক এই সীমাবদ্ধতা রংপুরের কাউনিয়া কলেজের শিক্ষার্থী কলি রানীর স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করে তিনি ডান পা দিয়ে লিখে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন, যা অন্যদের জন্য এক অনুপ্রেরণার উৎস।

জানা গেছে, রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার গদাই গ্রামের রুপালী রানীর মেয়ে কলি রানী। জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও ছোটবেলা থেকেই তিনি লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবা মনোরঞ্জন রায় মারা গেলেও, তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট কলি পরিবারের সহযোগিতায় সকল প্রতিকূলতাকে জয় করে এগিয়ে চলেছেন।

শুধু পড়াশোনাই নয়, গানেও রয়েছে তার বিশেষ দক্ষতা। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গেয়ে তিনি একাধিক সম্মাননা অর্জন করেছেন। এছাড়া পা দিয়ে তিনি কম্পিউটার ও মোবাইল ফোনও সাবলীলভাবে চালাতে পারেন। ভবিষ্যতে বিসিএস ক্যাডার হয়ে মানুষের সেবা করাই তার স্বপ্ন।

এর আগে পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় পা দিয়ে লিখেই ‘এ’ গ্রেড অর্জন করেন কলি। পরে এসএসসিতেও তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। বর্তমানে তিনি এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন এবং তার অদম্য চেষ্টা সবার নজর কেড়েছে।

কলি রানীর ভাই মন্টু রাম রায় জানান, জন্ম থেকেই তার বোনের হাতের আঙুল নেই। তাই হাতে কলম ধরতে না পারলেও ইচ্ছাশক্তির জোরে সে ডান পা দিয়ে লেখা শিখেছে। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে এখন সে দ্রুত লিখতে পারে। তিনি বোনের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে সমাজের বিত্তবান ও দয়ালু মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

কাউনিয়া মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব রফিকুল ইসলাম বলেন, অন্য পরীক্ষার্থীদের মতোই কলি রানী পা দিয়ে উত্তরপত্র লিখছে। শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় বিধি অনুযায়ী তাকে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছে। তিনি কলির উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ জীবনের সফলতা কামনা করেন। কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পাপিয়া সুলতানা বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কলি রানীর অগ্রযাত্রাকে থামাতে পারেনি। উপজেলা প্রশাসন সব সময় তার পাশে থাকবে। আমরা চাই সে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে নিজের স্বপ্ন পূরণ করুক এবং সমাজের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠুক।