ঢাকা ১২:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

শান্তি আলোচনা অনিশ্চিত, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের যুদ্ধ প্রস্তুতি বার্তা

ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে যে, ওয়াশিংটন যদি সমঝোতা স্মারক (MoU) মেনে না চলে, তবে তেহরান যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা কখন অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা না এলেও ইরানের পক্ষ থেকে এই কঠোর বার্তা এলো। ইরানি সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি তার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থ হয়, তবে চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা আর এগোবে না।

এক সাক্ষাৎকারে বাকের কালিবাফ অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র বারবার সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘন করেছে। পারস্য উপসাগরে মার্কিন হামলার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই জবাব দেব।’ তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা শুধু একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য নয়, বরং সমঝোতার ১৪ দফা শর্তের বাস্তবায়নেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কালিবাফের কথায়, ‘আমরা একটি এমওইউ স্বাক্ষর করেছি। এই সমঝোতা স্মারকের ১৩ অনুচ্ছেদ পূরণের জন্য আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে, যা সমঝোতা স্মারকের অন্যতম বড় সাফল্য ছিল।’ ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সমঝোতার শর্তগুলো মানা হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের যৌথ ব্যবস্থাপনায় একটি দল গঠিত হবে। যদিও সেই দল কীভাবে কাজ করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ইরানের স্পিকারের মতে, ওই দল গঠনের কাজ বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই আলোচনা চলছে।

এমওইউ স্বাক্ষরের পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানির ওপর চাপানো নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে। কালিবাফ বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী থেকে অবরোধ উঠে যাওয়ার পর থেকে ইরান ৪ কোটিরও বেশি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করেছে।’ তিনি জানান, হরমুজের ওপর ইরান এবং ওমানের কর্তৃত্ব রয়েছে এবং ওই নৌপথের ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকবে। সমঝোতা স্মারকের কথা উল্লেখ করে কালিবাফ আরও বলেন, ‘বিনামূল্যে হরমুজ দিয়ে ৬০ দিন যাতায়াত করতে পারবে পণ্যবাহী জাহাজগুলো। ইরান কোনো অবস্থাতেই হরমুজের ওপর তার অধিকার ছেড়ে দেবে না। এটা আমাদের আঞ্চলিক জলসীমা।’

এদিকে, কাতারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক নিয়ে বিভ্রান্তি তুঙ্গে। সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় দফার বৈঠকের ঘোষণা দিলেও মঙ্গলবার সেই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। সোমবার হোয়াইট হাউসের তরফে জানানো হয়, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার কাতারে যাচ্ছেন। কাকতালীয়ভাবে, প্রায় একই সময়ে ইরানও কাতারে প্রতিনিধিদল পাঠায়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপে হ্যালান্ড-বিস্ফোরণ: নকআউটে নরওয়ে, হুমকির মুখে রোনালদোর বিশ্বরেকর্ড

শান্তি আলোচনা অনিশ্চিত, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের যুদ্ধ প্রস্তুতি বার্তা

আপডেট সময় : ১০:৫১:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে যে, ওয়াশিংটন যদি সমঝোতা স্মারক (MoU) মেনে না চলে, তবে তেহরান যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা কখন অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা না এলেও ইরানের পক্ষ থেকে এই কঠোর বার্তা এলো। ইরানি সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি তার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থ হয়, তবে চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা আর এগোবে না।

এক সাক্ষাৎকারে বাকের কালিবাফ অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র বারবার সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘন করেছে। পারস্য উপসাগরে মার্কিন হামলার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই জবাব দেব।’ তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা শুধু একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য নয়, বরং সমঝোতার ১৪ দফা শর্তের বাস্তবায়নেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কালিবাফের কথায়, ‘আমরা একটি এমওইউ স্বাক্ষর করেছি। এই সমঝোতা স্মারকের ১৩ অনুচ্ছেদ পূরণের জন্য আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে, যা সমঝোতা স্মারকের অন্যতম বড় সাফল্য ছিল।’ ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সমঝোতার শর্তগুলো মানা হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের যৌথ ব্যবস্থাপনায় একটি দল গঠিত হবে। যদিও সেই দল কীভাবে কাজ করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ইরানের স্পিকারের মতে, ওই দল গঠনের কাজ বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই আলোচনা চলছে।

এমওইউ স্বাক্ষরের পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানির ওপর চাপানো নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে। কালিবাফ বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী থেকে অবরোধ উঠে যাওয়ার পর থেকে ইরান ৪ কোটিরও বেশি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করেছে।’ তিনি জানান, হরমুজের ওপর ইরান এবং ওমানের কর্তৃত্ব রয়েছে এবং ওই নৌপথের ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকবে। সমঝোতা স্মারকের কথা উল্লেখ করে কালিবাফ আরও বলেন, ‘বিনামূল্যে হরমুজ দিয়ে ৬০ দিন যাতায়াত করতে পারবে পণ্যবাহী জাহাজগুলো। ইরান কোনো অবস্থাতেই হরমুজের ওপর তার অধিকার ছেড়ে দেবে না। এটা আমাদের আঞ্চলিক জলসীমা।’

এদিকে, কাতারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক নিয়ে বিভ্রান্তি তুঙ্গে। সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় দফার বৈঠকের ঘোষণা দিলেও মঙ্গলবার সেই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। সোমবার হোয়াইট হাউসের তরফে জানানো হয়, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার কাতারে যাচ্ছেন। কাকতালীয়ভাবে, প্রায় একই সময়ে ইরানও কাতারে প্রতিনিধিদল পাঠায়।