বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া। শুক্রবার ভোর ৬টায় (বাংলাদেশ সময়) আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে এই শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে নামবে দুদল। ম্যাচের আগে উভয় শিবির থেকেই এসেছে আত্মবিশ্বাসী বার্তা, যা ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
পর্তুগালের আক্রমণভাগের অন্যতম তারকা জোয়াও ফেলিক্স জানিয়েছেন, দলের প্রাণভোমরা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে তার মাঠের বোঝাপড়া দলের জন্য একটি বড় শক্তি। ফেলিক্সের মতে, দুজনই একে অপরের খেলার ধরন খুব ভালোভাবে বোঝেন, যা একসঙ্গে খেলাকে অনেক সহজ করে তোলে। তিনি বলেন, সফল জুটি গড়ে ওঠে পারস্পরিক আস্থা ও বোঝাপড়া থেকে। এই বোঝাপড়াই পর্তুগালের আক্রমণভাগকে আরও কার্যকর করে তুলছে। তার ভাষ্য, ‘ক্রিশ্চিয়ানো জানে আমি কোথায় বল পেতে ভালোবাসি। আমিও জানি সে কখন কোথায় দৌড়াবে এবং কোন জায়গায় বল চাইবে। এই বোঝাপড়াটা শুধু আমাদের দুজনের জন্য নয়, পুরো দলের জন্যই বড় সুবিধা। আমরা জাতীয় দলেই হোক বা আল নাসরে, একসঙ্গে খেললেই সেটা অনুভব করি।’
অন্যদিকে, ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচ প্রতিপক্ষকে যথাযথ সম্মান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পর্তুগাল বিশ্বের অন্যতম সেরা দল এবং তাদের দলে এমন সব ফুটবলার আছে, যারা বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্লাবগুলোর হয়ে খেলছে। ক্রোয়াট কোচের মতে, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এখনও অসাধারণ একজন নেতা। তিনি লুকা মদরিচ ও লিওনেল মেসির মতোই এমন একজন ফুটবলার, যার উপস্থিতি পুরো দলকে বদলে দিতে পারে। তবে দালিচ স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘আমরা কাউকে ভয় পাই না। যদি নিজেদের পরিকল্পনা ঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি, শৃঙ্খলা ধরে রাখতে পারি এবং নিজেদের স্বাভাবিক ফুটবল খেলতে পারি, তাহলে যেকোনো দলের বিপক্ষেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সম্ভব।’
পর্তুগাল গ্রুপ পর্ব শেষ করেছে রানার্সআপ হয়ে, এরপর নকআউটে ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হয়েছে। অন্যদিকে, ক্রোয়েশিয়া কঠিন গ্রুপ পেরিয়ে দুর্দান্ত লড়াই করে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে। তাই ইউরোপিয়ান এই দুই পরাশক্তির লড়াইয়ে একদিকে থাকবে রোনালদো-ফেলিক্সদের আক্রমণভাগের ধার, অন্যদিকে মদরিচদের অভিজ্ঞতা ও ক্রোয়েশিয়ার লড়াকু মানসিকতা। শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিতে দুদলই নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেবে—এমন প্রত্যাশাই ফুটবলপ্রেমীদের।
রিপোর্টারের নাম 





















