চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রদল নেতাকর্মীদের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন ছাত্রশক্তি চবি শাখার মুখ্য সংগঠক উলফাতুর রহমান রাকিব। এ ঘটনার জেরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী এবং সহকারী প্রক্টরও ধাক্কাধাক্কি ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
মারধরের ঘটনায় ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাবেদসহ ২০ থেকে ২৫ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সূত্রপাত গত ২৯ জুন রাতে। সেদিন ছাত্রদলের আয়োজনে জায়ান্ট স্ক্রিনে ব্রাজিল বনাম জাপান ফুটবল ম্যাচ দেখানোর সময় মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ দিশান ও ইয়াফির সঙ্গে ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুনের কথা কাটাকাটি হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে গড়ায়।
ওই ঘটনার পর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান দিশানকে সরিয়ে নিয়ে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার পরামর্শ দিলেও, দিশান ও ইয়াফি ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর হাতে মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। এর জেরে মঙ্গলবার জিরো পয়েন্ট এলাকায় দিশান, পলাশ মোল্লা ও তাদের কয়েকজন সহযোগী মিলে মামুনকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর তারা শাহজালাল হলে আশ্রয় নেন।
ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে পৌঁছানোর আগেই মারধরের ঘটনায় জড়িত দুজনকে মোটরসাইকেলে করে আলাওল হল ও চবি মেডিকেলে নিয়ে যান ছাত্রশক্তি চবি শাখার মুখ্য সংগঠক উলফাতুর রহমান রাকিব। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রাকিবকে ফোন করে ঘটনাস্থলে ডাকেন। সেখানে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরও ধাক্কাধাক্কি ও হেনস্তার শিকার হন।
মারধরের শিকার ছাত্রশক্তি নেতা উলফাতুর রহমান রাকিব জানান, তার বন্ধু পলাশ তাকে চবি মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন। কেন বন্ধুকে মেডিকেলে নিয়ে গেছেন, তা জানতে চেয়ে ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব তাকে প্রশ্ন করেন। এরপর তিনি শাহজালাল হলের সামনে এলে ছাত্রদলের আরেক নেতা মামুনসহ ২০ থেকে ২৫ জন তাকে কিল-ঘুষি মারতে শুরু করে। কিছুক্ষণ পর তাকে দূরে নিয়ে গিয়ে ছাত্রদল নেতা জাবেদও থাপ্পড় মারেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
রিপোর্টারের নাম 
























