ঢাকা ০৪:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

নামাজরত মাকে কুপিয়া হত্যার দায়ে ছেলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদকের টাকার জন্য নামাজরত অবস্থায় নিজের মাকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার দায়ে ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিককে (৪৬) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে কুমিল্লার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক সাবরিনা নার্গিস এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আবু বক্কর সিদ্দিক আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

মামলার নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১১ অক্টোবর চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের পাশাকোট গ্রামে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘাতক আবু বক্কর সিদ্দিক দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। ঘটনার দিন মাদকের টাকা না পেয়ে তিনি তার ৮০ বছর বয়সী মা খায়েরা বেগম ওরফে খায়রুন্নেছার ওপর ক্ষিপ্ত হন। মা যখন জোহরের নামাজ আদায়ের সময় সেজদায় যান, তখন আবু বক্কর সিদ্দিক কুড়াল দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেন।

হত্যাকাণ্ডের পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা ঘাতক ছেলেকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে চৌদ্দগ্রাম থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে এবং নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে মাওলানা আবুল কাশেম বাদী হয়ে ছোট ভাই আবু বক্কর সিদ্দিককে একমাত্র আসামি করে চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও চৌদ্দগ্রাম থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক মো. নাসের তদন্ত শেষে ২০২১ সালে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, আলামত ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত এই রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার পর আদালতের বাইরে মামলার বাদী ও নিহতের বড় ছেলে মাওলানা আবুল কাশেম সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, তার ভাই দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করছিল এবং মাদকের টাকার জন্য প্রায়ই মায়ের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার পারিবারিক ও সামাজিকভাবে সালিশ-বৈঠক হলেও তার আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। শেষ পর্যন্ত জোহরের নামাজের সময় সিজদারত অবস্থায় সে মাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। তিনি আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ঘাতক ছেলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সীমান্তে উত্তেজনা: পাকিস্তানে আফগানিস্তানের ড্রোন হামলা, ৪টি ভূপাতিত করার দাবি

নামাজরত মাকে কুপিয়া হত্যার দায়ে ছেলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আপডেট সময় : ০৩:০৪:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদকের টাকার জন্য নামাজরত অবস্থায় নিজের মাকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার দায়ে ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিককে (৪৬) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে কুমিল্লার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক সাবরিনা নার্গিস এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আবু বক্কর সিদ্দিক আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

মামলার নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১১ অক্টোবর চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের পাশাকোট গ্রামে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘাতক আবু বক্কর সিদ্দিক দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। ঘটনার দিন মাদকের টাকা না পেয়ে তিনি তার ৮০ বছর বয়সী মা খায়েরা বেগম ওরফে খায়রুন্নেছার ওপর ক্ষিপ্ত হন। মা যখন জোহরের নামাজ আদায়ের সময় সেজদায় যান, তখন আবু বক্কর সিদ্দিক কুড়াল দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেন।

হত্যাকাণ্ডের পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা ঘাতক ছেলেকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে চৌদ্দগ্রাম থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে এবং নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে মাওলানা আবুল কাশেম বাদী হয়ে ছোট ভাই আবু বক্কর সিদ্দিককে একমাত্র আসামি করে চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও চৌদ্দগ্রাম থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক মো. নাসের তদন্ত শেষে ২০২১ সালে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, আলামত ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত এই রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার পর আদালতের বাইরে মামলার বাদী ও নিহতের বড় ছেলে মাওলানা আবুল কাশেম সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, তার ভাই দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করছিল এবং মাদকের টাকার জন্য প্রায়ই মায়ের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার পারিবারিক ও সামাজিকভাবে সালিশ-বৈঠক হলেও তার আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। শেষ পর্যন্ত জোহরের নামাজের সময় সিজদারত অবস্থায় সে মাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। তিনি আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ঘাতক ছেলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।