দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ক্ষমতার দাপটে বসতবাড়ি দখল, ভাঙচুর, লুটপাট এবং শারীরিক নির্যাতনের প্রতিবাদে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এক মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার পূর্ব হুগলীপাড়া গ্রামে এই মানববন্ধনের আয়োজন করেন মোতাহারা বেগম নামের এক ভুক্তভোগী নারী।
মানববন্ধনে মোতাহারা বেগম অভিযোগ করেন, ১১৯ নং এসএ খতিয়ানভুক্ত পৈতৃক সম্পত্তিটি মূল মালিক নছির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুর পর তার মেয়ে নছিমন খাতুন (মোতাহারা বেগমের শাশুড়ি) ওয়ারিশ সূত্রে মালিক হন। কিন্তু পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষ নুরুল আমিন স্থানীয় সন্ত্রাসীদের সহায়তায় অতর্কিত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় পরিবারের সদস্যদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারটি জানায়, নুরুল আমিন ক্ষমতার জোরে তাদের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটিও দেয়াল তুলে বন্ধ করে দিয়েছেন। এর ফলে প্রায় তিন বছর ধরে মোতাহারা বেগম ও তার পরিবার চরম অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন এবং ঘরের পেছনের জানালা দিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন। এই অমানবিক পরিস্থিতি ও নির্যাতনের প্রতিকার চেয়ে এবং চলাচলের রাস্তাটি দ্রুত অবমুক্ত করার দাবিতে পার্বতীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগও দাখিল করা হয়েছে।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন পার্বতীপুর উপজেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রুবি বেগমসহ এলাকার আরও অনেকে। বক্তারা অবিলম্বে এই অবৈধ দখলদারি ও নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানান এবং প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে প্রতিপক্ষ নুরুল আমিন নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি নিয়ম মেনে জমি কিনেছি। যেহেতু এটি আমার কেনা জমি, তাই আমি আমার জমির সীমানার ওপর দিয়ে প্রাচীর নির্মাণ করেছি।’ ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী এই অমানবিক অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 




















