ঢাকা ০৪:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় ট্র্যাকিং বন্ধ রাখছে ভারতগামী জাহাজ

ইরানের সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি এড়াতে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় ভারতগামী অধিকাংশ বাণিজ্যিক জাহাজ তাদের অবস্থান শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বা ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ রাখছে। সামুদ্রিক চলাচল সংক্রান্ত উপাত্ত থেকে এই তথ্য জানা গেছে, যা এই অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাকে তুলে ধরে।

সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘কেপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগর থেকে ভারতের দিকে যাত্রা করা প্রায় ৬২ শতাংশ ট্যাংকার ও মালবাহী জাহাজ এই ঝুঁকিপূর্ণ প্রণালি পার হওয়ার সময় তাদের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে দিচ্ছে। সাধারণত জাহাজগুলো নিজেদের পরিচয়, অবস্থান ও গন্তব্য জানানোর জন্য অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) ট্রান্সপন্ডার ব্যবহার করে। তবে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে জাহাজগুলো অনেক সময় তথ্য পাঠানো বন্ধ করে দেয়, যা সামুদ্রিক ভাষায় ‘গোয়িং ডার্ক’ বা অন্ধকারাচ্ছন্ন হওয়া নামে পরিচিত।

পশ্চিমা দেশগুলোর মিত্র বা ইরানের প্রতি বৈরীভাবাপন্ন দেশের পতাকাবাহী জাহাজগুলো এই সমুদ্রপথে বেশি ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে। এসব নৌযান সাধারণত ওমান নিয়ন্ত্রিত নৌপথটি ব্যবহার করছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ওমান সমর্থন করলেও ইরান স্বীকৃতি দেয়নি। এর বিপরীতে ইরান নিয়ন্ত্রিত রুট ব্যবহারকারী জাহাজগুলো সাধারণত তাদের ট্রান্সপন্ডার চালু রাখে, যদিও তাদের মধ্যেও কিছু জাহাজ ইরানের নজরদারির মধ্যে থাকার সময়ও ট্র্যাকিং বন্ধ করে দিয়েছে।

কেপলারের তথ্যমতে, গত ১ মে থেকে ২৫ জুনের মধ্যে ভারতগামী মোট ৭৩টি জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে ৪৫টি জাহাজ তাদের অবস্থান বা পরিচয়ের তথ্য প্রচার না করেই চলাচল করেছে। এই সময়ের মধ্যে ভারতের পতাকাবাহী মাত্র চারটি জাহাজ এই সমুদ্রপথ পার হয়েছে, যার মধ্যে দুটি জাহাজ তাদের পরিচয় ও রুটের তথ্য গোপন রেখেছিল। পানামা, লাইবেরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মার্শাল আইল্যান্ডের মতো দেশের পতাকাবাহী অন্তত ৬৯টি ভারতগামী জাহাজও তাদের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে দিয়েছিল।

গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিক থেকে এই অঞ্চলে সংঘাত বাড়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পরিস্থিতি ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। এই পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুটে নিরাপত্তার উদ্বেগ এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রতিফলন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোলায় বাস মালিকদের বিরুদ্ধে অটোরিকশাচালকদের প্রতিবাদ: নির্যাতন বন্ধে ১০ দফা দাবি

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় ট্র্যাকিং বন্ধ রাখছে ভারতগামী জাহাজ

আপডেট সময় : ০২:৫৫:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

ইরানের সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি এড়াতে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় ভারতগামী অধিকাংশ বাণিজ্যিক জাহাজ তাদের অবস্থান শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বা ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ রাখছে। সামুদ্রিক চলাচল সংক্রান্ত উপাত্ত থেকে এই তথ্য জানা গেছে, যা এই অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাকে তুলে ধরে।

সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘কেপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগর থেকে ভারতের দিকে যাত্রা করা প্রায় ৬২ শতাংশ ট্যাংকার ও মালবাহী জাহাজ এই ঝুঁকিপূর্ণ প্রণালি পার হওয়ার সময় তাদের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে দিচ্ছে। সাধারণত জাহাজগুলো নিজেদের পরিচয়, অবস্থান ও গন্তব্য জানানোর জন্য অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) ট্রান্সপন্ডার ব্যবহার করে। তবে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে জাহাজগুলো অনেক সময় তথ্য পাঠানো বন্ধ করে দেয়, যা সামুদ্রিক ভাষায় ‘গোয়িং ডার্ক’ বা অন্ধকারাচ্ছন্ন হওয়া নামে পরিচিত।

পশ্চিমা দেশগুলোর মিত্র বা ইরানের প্রতি বৈরীভাবাপন্ন দেশের পতাকাবাহী জাহাজগুলো এই সমুদ্রপথে বেশি ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে। এসব নৌযান সাধারণত ওমান নিয়ন্ত্রিত নৌপথটি ব্যবহার করছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ওমান সমর্থন করলেও ইরান স্বীকৃতি দেয়নি। এর বিপরীতে ইরান নিয়ন্ত্রিত রুট ব্যবহারকারী জাহাজগুলো সাধারণত তাদের ট্রান্সপন্ডার চালু রাখে, যদিও তাদের মধ্যেও কিছু জাহাজ ইরানের নজরদারির মধ্যে থাকার সময়ও ট্র্যাকিং বন্ধ করে দিয়েছে।

কেপলারের তথ্যমতে, গত ১ মে থেকে ২৫ জুনের মধ্যে ভারতগামী মোট ৭৩টি জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে ৪৫টি জাহাজ তাদের অবস্থান বা পরিচয়ের তথ্য প্রচার না করেই চলাচল করেছে। এই সময়ের মধ্যে ভারতের পতাকাবাহী মাত্র চারটি জাহাজ এই সমুদ্রপথ পার হয়েছে, যার মধ্যে দুটি জাহাজ তাদের পরিচয় ও রুটের তথ্য গোপন রেখেছিল। পানামা, লাইবেরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মার্শাল আইল্যান্ডের মতো দেশের পতাকাবাহী অন্তত ৬৯টি ভারতগামী জাহাজও তাদের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে দিয়েছিল।

গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিক থেকে এই অঞ্চলে সংঘাত বাড়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পরিস্থিতি ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। এই পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুটে নিরাপত্তার উদ্বেগ এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রতিফলন।