ঢাকা ০৩:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

মিয়ানমারে জেড খনি ধস: নিহত ৫, নিখোঁজ ১৫ জন

মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় কাচিন রাজ্যে একটি পরিত্যক্ত জেড খনিতে বর্জ্যের স্তূপ ধসে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন এবং আরও প্রায় ১৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। মঙ্গলবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করেছে। টানা কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টির কারণে পুরোনো খনির বর্জ্যের স্তূপ আলগা হয়ে যাওয়ায় এই ধসের ঘটনা ঘটে।

কাচিন রাজ্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় জেডাইটের উৎসস্থল হিসেবে পরিচিত। এশিয়ার বিভিন্ন সংস্কৃতিতে এই মূল্যবান পাথর সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয় এবং প্রতিবেশী চীনে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। মিয়ানমারের খনি খাতের একটি বড় অংশই নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় পরিচালিত হয়।

সামরিক অভ্যুত্থানের পর শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে লড়াইরত বিভিন্ন পক্ষ অনেক খনির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে এবং খনি থেকে প্রাপ্ত অর্থ নিজেদের তহবিল সমৃদ্ধ করতে ব্যবহার করছে। অন্যদিকে, দরিদ্র স্থানীয় মানুষ জীবিকার তাগিদে ভূগর্ভে কাজ করেন অথবা খনির ফেলে দেওয়া অংশ থেকে মূল্যবান পাথরের টুকরো সংগ্রহ করেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

রাষ্ট্রীয় দৈনিক দ্য গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার জানিয়েছে, অনুসন্ধানকারীরা নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে খননকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রধান খনি কার্যক্রম থেকে বাদ পড়ে যাওয়া রত্নের টুকরো সংগ্রহ করে যারা জীবিকা নির্বাহ করেন, তারা এই অত্যন্ত লাভজনক শিল্পের সবচেয়ে নিচের স্তরের শ্রমিক। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ফাকান্ত এলাকায় জেড খনির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বিরোধী সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষও হয়েছে, যা এই অঞ্চলের ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সোনালু: গ্রীষ্মের রুক্ষতায় এক পশলা সোনালি সৌন্দর্যের ছোঁয়া

মিয়ানমারে জেড খনি ধস: নিহত ৫, নিখোঁজ ১৫ জন

আপডেট সময় : ০১:৪২:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় কাচিন রাজ্যে একটি পরিত্যক্ত জেড খনিতে বর্জ্যের স্তূপ ধসে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন এবং আরও প্রায় ১৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। মঙ্গলবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করেছে। টানা কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টির কারণে পুরোনো খনির বর্জ্যের স্তূপ আলগা হয়ে যাওয়ায় এই ধসের ঘটনা ঘটে।

কাচিন রাজ্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় জেডাইটের উৎসস্থল হিসেবে পরিচিত। এশিয়ার বিভিন্ন সংস্কৃতিতে এই মূল্যবান পাথর সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয় এবং প্রতিবেশী চীনে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। মিয়ানমারের খনি খাতের একটি বড় অংশই নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় পরিচালিত হয়।

সামরিক অভ্যুত্থানের পর শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে লড়াইরত বিভিন্ন পক্ষ অনেক খনির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে এবং খনি থেকে প্রাপ্ত অর্থ নিজেদের তহবিল সমৃদ্ধ করতে ব্যবহার করছে। অন্যদিকে, দরিদ্র স্থানীয় মানুষ জীবিকার তাগিদে ভূগর্ভে কাজ করেন অথবা খনির ফেলে দেওয়া অংশ থেকে মূল্যবান পাথরের টুকরো সংগ্রহ করেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

রাষ্ট্রীয় দৈনিক দ্য গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার জানিয়েছে, অনুসন্ধানকারীরা নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে খননকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রধান খনি কার্যক্রম থেকে বাদ পড়ে যাওয়া রত্নের টুকরো সংগ্রহ করে যারা জীবিকা নির্বাহ করেন, তারা এই অত্যন্ত লাভজনক শিল্পের সবচেয়ে নিচের স্তরের শ্রমিক। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ফাকান্ত এলাকায় জেড খনির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বিরোধী সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষও হয়েছে, যা এই অঞ্চলের ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে।