একজন করদাতাকে তাঁর বার্ষিক আয়কর বিবরণী বা রিটার্নে সারা বছরে অর্জিত আয়ের খাতগুলো প্রদর্শন করতে হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একজন করদাতার মোট আয় নির্ধারণের জন্য আয়কর জমার রিটার্ন ফরমে (আইটি ১১গ (২০২৩)) মোট আয়কে ১০টি প্রধান ভাগে ভাগ করেছে। করদাতার মোট আয় এই ১০টি খাতের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়, যার ওপর নিয়ম অনুসারে কর বসে।
করদাতার মোট আয় নির্ধারণের সেই ১০টি খাত নিচে দেওয়া হলো:
১. চাকরি থেকে আয়: সরকারি, বেসরকারি বা যেকোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে অর্জিত বেতন, ভাতা, বোনাস, ইনসেনটিভসহ সব ধরনের পারিশ্রমিক এই খাতে দেখাতে হয়।
২. ভাড়া থেকে আয়: বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, দোকান বা অন্য যেকোনো সম্পত্তি ভাড়া দিয়ে বছরে যে আয় হয়, তা এখানে উল্লেখ করতে হবে।
৩. কৃষি থেকে আয়: কৃষিজমি, ফসল, ফল, সবজি, পশুপালন বা যেকোনো কৃষিকাজ থেকে অর্জিত আয় এই খাতে অন্তর্ভুক্ত।
৪. ব্যবসা থেকে আয়: ব্যক্তিমালিকানাধীন ব্যবসা বা পেশাগত কার্যক্রম (যেমন ডাক্তার, আইনজীবী, পরামর্শক ইত্যাদি) থেকে প্রাপ্ত আয় এখানে দেখানো হয়।
৫. মূলধনি আয়: মুনাফা, ভাড়া, রয়্যালটি, সুদ বা অন্য সব মূলধনি সম্পদের ব্যবহারের বিনিময়ে অর্জিত আয় এই খাতে পড়ে।
৬. আর্থিক পরিসম্পদ থেকে আয়: ব্যাংক, সঞ্চয়পত্র, লভ্যাংশ, ট্রেজারি বন্ড বা সিকিউরিটিজ থেকে অর্জিত সুদ বা মুনাফা এই অংশে উল্লেখ করতে হয়।
৭. অন্যান্য উৎসের আয়: রয়্যালটি, লাইসেন্স ফি, সম্মানী, ফি, সরকার প্রদত্ত নগদ ভর্তুকি বা যেকোনো বিচ্ছিন্ন ধরনের আয় এই খাতে পড়ে।
৮. ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘের আয় থেকে প্রাপ্য অংশ: পার্টনারশিপ ব্যবসা বা ব্যক্তিসংঘের সদস্য হিসেবে যে আয় প্রাপ্য হয়, তা এখানে যোগ করতে হয়।
৯. অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান, স্ত্রী বা স্বামীর আয়: যদি পরিবারের সদস্যদের কেউ করদাতা না হন এবং তাঁদের আয় করদাতার সঙ্গে যোগ হয়, তাহলে সেই আয়ের অংশ এই খাতে দেখাতে হয়।
১০. বিদেশে অর্জিত করযোগ্য আয়: বিদেশে কাজ, বিনিয়োগ বা সম্পদ থেকে অর্জিত করযোগ্য আয় থাকলে তা এই অংশে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
উল্লেখ্য, ৩০ নভেম্বর বার্ষিক আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন জমার সময় শেষ হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 























